হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর ইসরায়েলে ট্রাম্পের দূত কুশনার

জ্যারেড কুশনার মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার পৌঁছেছেন ইসরায়েলে। আজ সোমবার তার বৈঠকের কথা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে।
এর আগে গাজায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে হামাসের সঙ্গে বিরল বৈঠক করেছেন কুশনার।
গতকাল রবিবার মিসরে হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বোর্ড অব পিসের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও ছিলেন। মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন। এসব দেশ গাজা শান্তি প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতা করছে।
কুশনার মিসরে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও করেছেন বৈঠক।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার ম্লাদেনভ ও ব্লেয়ারও নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। লক্ষ্য হবে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নেতানিয়াহু নিজেই। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হবে না।
তবে ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস গত মাসে জানিয়েছিল, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
কিন্তু গত সপ্তাহে ১৫ দফার ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু বলেছেন, বোর্ড অব পিসের ১৫ দফা নথি ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।
অন্যদিকে হামাস নিরস্ত্র হতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়েও অনেক ইসরায়েলির সংশয় রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করার পর গত রবিবার মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
দেশগুলো বলেছে, ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সূত্র : বিবিসি







