শহর ডোবার পর এল ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা

ভারী বৃষ্টিতে নগরের চক সুপার মার্কেটে বুকসমান পানি। ছবি: রনি দে, আগামীর সময়
চট্টগ্রামে অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টি কারও ঘরবাড়ি ডুবিয়েছে, কারও যাত্রাভঙ্গের কারণ হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে।
কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই অকস্মাৎ এই ভারী বর্ষণ। আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা এসেছে নগর ডোবার পর আজ সোমবার সকালে। তার আগেই রবিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ১৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এর আগে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হয় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি।
২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি আখ্যায়িত করা হয়। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি ধরা হয় বলে আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তায় জানানো হয়।
নগরীর কাপসগোলা এলাকায় হাঁটুপানি। ছবি: আগামীর সময়
সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ কারণে কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা সতর্কবার্তায় জানানো হয়।
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল ৬টা থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ওঠে। বিশেষ করে মুরাদপুর, চকবাজার, পাঁচলাইশ, চকবাজার, জামালখানসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার দোকানপাট ও ঘরবাড়িতেও পানি ঢোকে। হাঁটু বা কোমরসমান পানি উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন লোকজন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২০১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১৩৭ দশমিক ২ মিলিমটিার।
আবহাওয়াবিদ মো. ইসমাইল ভূঁইয়া আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আজ সকালে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ এবং মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।








