১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ বছরের সীমা!
যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তন

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়মে এতদিনের ‘Duration of Status’ ব্যবস্থার পরিবর্তে শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় আরও নির্দিষ্ট ও সময়সীমাভিত্তিক হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নিয়মে F-1 শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময় তাদের নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছরের সীমা প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে না পারলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হতে পারে।
এর প্রভাব বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি PhD, গবেষণা ও অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রি কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি পড়তে পারে। কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি শেষ করতে না পারলে সময় বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
শুধু পড়াশোনার মেয়াদ নয়, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, প্রোগ্রাম পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কমছে পড়াশোনা শেষে থাকার সময়
নতুন ব্যবস্থায় F-1 শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে ডিগ্রি শেষ হওয়ার পর চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের হাতে আগের তুলনায় কম থাকবে।
১৫ সেপ্টেম্বরের আগে-পরে ভ্রমণে সতর্কতা
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অফিসের সঙ্গে নিজেদের ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে আগেই আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই চার বছরের বেশি থাকতে পারবেন না—বিষয়টি এমন নয়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদন চাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে সময়সীমা, আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে আগের তুলনায় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের I-20, SEVIS রেকর্ড, I-94 এবং প্রোগ্রামের সম্ভাব্য সমাপ্তির তারিখ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি সময় নিতে পারে, সেসব শিক্ষার্থীর আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের International Student Office-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অনলাইন যাচাইও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের বিষয়টিও ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান—দুটিই জটিলতার মুখে পড়তে পারে।






