তেহরানের অনুরোধের পর আকাশপথ খুলল ইরাক

ইরানি বিমান চলাচল কার্যক্রমের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ এবং ইরান ও ইরাকের মধ্যকার ফ্লাইটের ওপর এর প্রভাবের প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভকারীরা নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে সমবেত হয়—রয়টার্স
ইরানের বিমান সংস্থাগুলোকে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ৪০টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়ে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। তবে এ সুবিধার আওতায় থাকছে না মাহান এয়ার। ওয়াশিংটন বাগদাদের অনুরোধে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার পর ইরাক এ ঘোষণা দিল।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পর্যটক, ধর্মীয় পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী পরিবহনের ফ্লাইটগুলো আবার চালু হবে।
এর আগে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ইরানগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছিল ইরাক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরাকে বিক্ষোভ হয় এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তেহরান থেকেও আহ্বান জানানো হয়।
বাগদাদ, এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরে ফ্লাইট এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের অন্তত ১২ ঘণ্টার স্থলপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শিয়াপ্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, ইরাকের কেন্দ্রীয় নাজাফ প্রদেশ ও ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দরের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট আবার চালু করেছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইরাকি এয়ারওয়েজ।
এর আগে, ইরান বৃহস্পতিবার ইরান ও ইরাকের মধ্যে ফ্লাইট চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে দুই দেশের স্বাভাবিক বিমান চলাচল পুনরায় চালুর আহ্বান জানায়।
এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরান ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং দুই দেশের বিমান সংস্থাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য ‘উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি অভিযোগ করেছে, ইরানের বাণিজ্য ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যাহত করতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ ব্যবহার করছে।
ইরান বলেছে, ইরান-ইরাক বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ দুই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। এতে তীর্থযাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক লাখ যাত্রী গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ইরান ও ইরাকের সম্পর্ক গভীর ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ‘স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে পরিবহন যোগাযোগ পরিচালনা করা উচিত।
ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর মধ্যে দেশটির বিমান চলাচল খাত এবং ইরানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনও রয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, ইরান সরকারের হাতে থাকা রাজস্ব ও সম্পদের প্রবাহ সীমিত করাই এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা সাধারণ অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ ব্যাহত করছে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি



