কাতার উপকূলে তেলের ট্যাংকারে একাধিক হামলা, হতাহতের খবর

কাতারের দোহায় উপকূলীয় এলাকায় কিছু ভবন দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি / রয়টার্স
কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা (ইউকেএমটিও) বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে ট্যাংকারটিতে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা জানানো হয়নি। হামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে। জাহাজটির মালিকানা বা পতাকাও প্রকাশ করা হয়নি।
পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি অংশে কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা বিরল। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলবিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় উপসাগরে কোনো ট্যাংকারে হামলার এটিই প্রথম ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাতার এখনো হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনাস্থলটি দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) মধ্যে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হামলার ঘটনা বেশি ঘটেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
ইউকেএমটিও মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে নয়টি হামলা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রণালি ও উপসাগর মিলিয়ে যত হামলা হয়েছিল, চলতি মাসের এই সংখ্যা তার অর্ধেক।
তবে হামলার মধ্যেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে গেছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের গড় ছিল দিনে ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধের আগের ১২ মাসে এই গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। মঙ্গলবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। ২৩ জুলাইয়ের পর এটিই ছিল সর্বনিম্ন সংখ্যা।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়ায়। তবে রোববার ও সোমবার প্রতিদিন ২০টির বেশি জাহাজ চলাচল করেছিল। গত দুই দিনে প্রণালিতে প্রবেশ করা জাহাজের সংখ্যা বের হয়ে যাওয়া জাহাজের চেয়ে বেশি ছিল।
কেপলারের বিশ্লেষকদের হিসাবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন আগের সপ্তাহের যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ২৭ শতাংশ কমে দিনে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। এটি সেপ্টেম্বরের গড়ের কাছাকাছি হলেও যুদ্ধের আগের মাত্রার তুলনায় ৭৪ শতাংশ কম।
সূত্র : আলজাজিরা




