কোম শহরে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

কোম শহরের বিখ্যাত জামকারান মসজিদে সমবেত হয়েছেন লাখ লাখ শোকার্ত ইরানি। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য পবিত্র কোম শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এই ইসলামী বিপ্লবের নেতার শোক মিছিল কোম শহরে এসে পৌঁছালে সেখানে লাখো শোকার্ত ইরানির ঢল নামে।
দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ ভোরেই শোকগ্রস্ত জনতা কোম শহরের বিখ্যাত জামকারান মসজিদে সমবেত হতে শুরু করেন। সেখান থেকেই মূলত আজকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পরে এই জামকারান মসজিদেই খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
তাসনিম নিউজের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, জানাজায় অংশ নিতে জামকারান মসজিদে লাখ লাখ শোকার্ত ইরানির ঢল নামে।
জানাজা শেষে সমবেত জনতা আয়াতুল্লাহ আজম বুলেভার্ড ধরে কোমের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান হযরত মাসুমা (আ.)-এর মাজার দিকে শোক মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়।
এর আগে গতকাল সোমবার গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে খামেনির কফিন শহরের আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হয়। কফিনগুলো সেখানে পৌঁছালে কালো পোশাক পরিহিত শোকার্ত ইরানিরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই হামলায় নিহত হন খামেনি পরিবারের আরও চার সদস্য।
খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে গত শুক্রবার থেকে তেহরানে নজিরবিহীন আয়োজন শুরু হয়। এদিন গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয় খামেনির কফিন। সেখানে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিরা শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের গ্র্যান্ড মোসাল্লার সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। রবিবার তেহরানে জানাজা শেষে সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোয় অনুষ্ঠিত হয় শোকযাত্রা। আজ মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হয় পবিত্র নগরী কোমে।
আগামীকাল বুধবার কর্মসূচি সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় পৌঁছাবে। এরপর বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।
সূত্র : মেহের নিউজ এজেন্সি




