তেহরানে ফরাসি ভাষা কেন্দ্র সিলগালা, প্যারিসের তীব্র প্রতিক্রিয়া
- তলব করা হচ্ছে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্স ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কে চলা দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে সংযুক্ত একটি প্রধান ফরাসি ভাষার কেন্দ্র বিচার বিভাগের নির্দেশে সিলগালা করে দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ফরাসি সরকার।
ঘটনার দিনই ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম ‘মিজান’ এবং আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ এক প্রতিবেদনে জানায় যে, তেহরান প্রোসিকিউটর অফিসের বিচারিক আদেশে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের বৈধ সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশি ভাষা শেখানোর নামে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এছাড়া, কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে ভাষা শিক্ষার আড়ালে ইরানি-ইসলামিক সংস্কৃতির পরিপন্থী প্রকল্প বাস্তবায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং দেশের মেধাবী তরুণদের চিহ্নিত করে গোপন নেটওয়ার্ক
গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের দেশত্যাগে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পরদিন অর্থাৎ গতকাল রবিবারই ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাসকেল কনফ্যাভ্রেউ এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে “অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানান। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ফ্রান্সে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে এবং এর জবাবে প্যারিস উপযুক্ত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে, গত জুলাই মাসে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীকে হেনস্থা ও আটকের ঘটনার ধারাবাহিকতায় এটি তাদের সাংস্কৃতিক উপস্থিতির ওপর নতুন এক আঘাত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাত্র কিছুদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মাহসা আমিনীর মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর একটি সমালোচনামূলক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্রান্সের বক্তব্যকে ‘কুম্ভীরাশ্রু’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এছাড়া, গত মাসে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে “হস্তক্ষেপের” অভিযোগে দুই দেশই পাল্টাপাল্টিভাবে কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের সাইডলাইনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নির্ধারিত বৈঠকের ঠিক প্রাক্কালে এই ভাষা কেন্দ্র সিলগালা করার ঘটনা তেহরান-প্যারিস সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে গেছে।



