আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলো মমতা ও তৃণমূলের নেতাদের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: ভিডিও থেকে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ পণ্ড করতে পুলিশ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী, বিরোধী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা, আইনজীবী এবং ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের সংগঠকদের আটক করেছে। এর মধ্যে দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধরনায় বসে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
একই সঙ্গে আটক করা তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সামিরুল ইসলামসহ তৃণমূল নেতাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দিল্লিতে আটক হয়েছেন ৬ হাজার। তবে পুলিশ সূত্র বলছে, দিল্লিতে আটক হয়েছেন প্রায় ৫০০০ বিক্ষোভকারী।
আজ আটকের আগে মমতা বলেছিলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ধরনা দিতেও দিচ্ছে না পুলিশ। ধরনা দেওয়া, প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ তাতেও হস্তক্ষেপ করছে। অনৈতিকভাবে আমাকে আটক করা হলো। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, জানি না।’
এদিকে বিক্ষোভ দমাতে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।
সিজেপির সমর্থনে মুম্বইয়ের পথে প্রতিবাদে নেমে আটক হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খানও। ওই শহরে অন্তত ৪০০ জন আটক। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সিজেপিকে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে দিল্লি পুলিশের দাবি, অনুমতি চাইতে দেরি করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর সৌরভ দাসের পক্ষে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। এখন যা নির্দেশিকা রয়েছে, সেই অনুসারে কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে অনুমতি চাইতে হবে।
বিক্ষোভের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল তার এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ‘ভারতের যুবসমাজ, প্রতিবাদ করে যাও। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ভারতের রাজধানীতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও অন্যান্য যুব গোষ্ঠী। ভোটারদের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার জন্য কুমারসহ নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই এসআইআর ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে বিরোধী দলগুলো বলছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই ঘটনা বিজেপির জেতা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করেছে এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মধ্য দিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভের স্থান যন্তর মন্তরে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা ছিল সিজেপির। কিন্তু শনিবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকাটি অবরুদ্ধ করে দেয়।
এই বিক্ষোভ রোধে রাজধানী জুড়ে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল করা হয়, মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয় এবং মেট্রো স্টেশন ও বাজারগুলো বন্ধ রাখার মাধ্যমে পুরো শহর কার্যত লকডাউনের আওতায় আনা হয়।
মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর একটি বিমানের ভেতর থেকেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
দীপকে তার ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে বিমানটি অবতরণের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিমানের ভেতর প্রবেশ করতে দেখা যায়। তারা কাছে আসার পর তিনি বলেন, ‘আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি। আমি আপনাদের ভয় পাই না।’
দিল্লি পুলিশ আরও আটক করেছে সিজেপির অন্য সদস্যদের, ইউটিউবার ও মোদি সমালোচক ধ্রুব রাঠি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা, দলটির সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদবকে।
এই আটকের ঘটনার পর বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন।
এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, মোদি সরকার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’কে একটি ‘মাজল্ড ডেমোক্রেসিতে’ পরিণত করেছে! আটক, গ্রেপ্তার, জেল, লাঠি ও পেলেট গান ভারতের মানুষকে দমাতে পারবে না। আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের দিন থেকেই তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।’






