খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, উত্তেজনা বায়তুল মোকাররমে

বায়তুল মোকাররমে খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লিরা। ছবি: ফোকাস বাংলা
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খতিব আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
খতিব আব্দুল মালেককে অপসারণ করতে জামায়াতে ইসলামী ইন্ধন দিচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভ ডাকা হয়।
এ সময় ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদুদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান বিক্ষোভকারীদের।
তবে খতিব আব্দুল মালেককে অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে যেমন জানা যায়নি, এ বিষয়ে জামায়াতের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে বিক্ষোভকারীরা বায়তুল মোকাররমের প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয় ‘মঞ্চ ২৪’ আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফাহিমকে উদ্দেশ করে ‘রাজাকার’, ‘শিবির’ বলে স্লোগান দেন মুসল্লিরা।
এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভূমিকা রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পল্টন থানার ওসি আরিফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন সংগঠনের প্রোগ্রাম ছিল বলে একটু ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি খতিবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি ৫ জন মানুষের নাম নিতে হয়, তার মধ্যে একজনের নাম হিসেবে খতিব আব্দুল মালেকের নাম নিতে হবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খতিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হলে জামায়াত-শিবিরের অবস্থা গোলাম আজমের মতো করা হবে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তার বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ সময় তাকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।
এদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।
খতিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। তবে খতিবকে অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



