হৃদরোগের ১৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তদন্ত কমিটি

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অপারেশনের জন্য রোগীদের কেনা ওষুধ বাইরে বিক্রি এবং ফার্মেসিতে ফেরত যাওয়ার অভিযোগ তদন্তে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ছয় সিনিয়র স্টাফ নার্সকে প্রত্যাহার করে মেট্রোনের দপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে অঞ্জু আরা বানু, সালেহা আক্তার, ছাইফুন নাহার, তন্নি অধিকারী, ফাতেমা খাতুন ও রেহানাতুল জান্নাতকে ক্যাথ-১, ক্যাথ-২ ও ভাসকুলার ওটি থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মেট্রোনের দপ্তরে ন্যস্ত করা হয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর আগামীর সময়ে ‘রোগীর কেনা ওষুধ অপারেশন থিয়েটার থেকে যেভাবে ফেরে ফার্মেসিতে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে হাসপাতালের কয়েকজন নার্সের বিরুদ্ধে ক্যাথ ল্যাব থেকে ওষুধ বাইরের ফার্মেসিতে বিক্রির তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে হৃদরোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম চৌধুরীকে সভাপতি, হাসপাতালের উপপরিচালককে সদস্য এবং ডা. মোহাম্মদ ফজলে মারুফকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জরুরি ভাসকুলার ওটিতে কর্মরত ওয়ার্ড বয় মো. মিরাজ শিকদার ও গিয়াস উদ্দিনকে স্লিপের বিপরীতে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের কর্মরত রাখলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ক্যাথ-১-এর বাবলুর রহমান, ক্যাথ-২-এর শান্তা ও ইনসান আলী, এইচডিইউর হোসেন মিয়া, ভাসকুলার ওটির শাহ জালাল ও কার্ডিয়াক আইসিইউতে মিম ইসলামসহ ছয়জন আউটসোর্সিং কর্মী-ওয়ার্ড বয় এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও প্রত্যাহার করে ওয়ার্ড মাস্টারদের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এদিকে আগামীর সময়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযুক্ত কয়েকজন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, গত চার বছর ধরে ল্যাব জোন-২ এ কাজ করছেন অনামিকা। তিনি নিজে দায়িত্ব পালন না করে সাইফুন্নাহার, তন্বি ও শান্তাকে দিয়ে কাজ করাতেন। এমনকি তাদের থেকে বিক্রি করা ওষুধের টাকার ভাগও নিতেন বলে দাবি তাদের। অনামিকা ছাড়াও সিসিইউ-২-এর অনুপম, রুবেল ও ওয়ার্ডবয় খিতিশও অপারেশন থিয়েটারে রোগীর নেওয়া ওষুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে তারা দাবি করেছেন। তদন্তের আওতায় আসা এসব কর্মচারীরা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হলে এদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আগামীর সময়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী।



