পটুয়াখালী
ডিসির মতবিনিময় সভায় অস্ত্র মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি!

কোলাজ : আগামীর সময়
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত এক আসামির বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম। সভায় বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হলেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী। তিনি পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে তারা বক্তব্য দেন।
একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী বক্তব্য দেন। সভায় উপস্থিত কেউ একজন তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে শুক্রবার সকালে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর সকালে মির্জাগঞ্জ উপজেলা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলিসহ জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। পরে মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন এবং সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
এ ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রায় এক বছর পর দলের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত আরেকটি আদেশে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন বলেছেন, এ ধরনের সভায় চার্জশিটভুক্ত আসামির অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেওয়া বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এমন ঘটনা তাদের কাছে প্রত্যাশিত নয় এবং তা শোভনীয়ও নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেছেন, মামলাটি আগের হওয়ায় বিষয়টি তার নজরে ছিল না। সভায় পুলিশ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন, তবে তারাও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানাননি। সংসদ সদস্যের পরামর্শে তার প্রতিনিধি হিসেবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী জাহাঙ্গীর হোসেনকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




