প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজেপির মুখ্যসচিব, পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
সংবাদদাতা, কলকাতা

মনোজ কুমার আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্ত (বাঁ থেকে)
পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর তা আরও জোরালো হচ্ছে। কারণ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই শীর্ষ কর্মকর্তা- মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং সুব্রত গুপ্ত এখন শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। আর এই ঘটনাই বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির পুরস্কার’ দেওয়ার অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলছে।
রাজ্যের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমার আগরওয়ালকে বিজেপি সরকার সরাসরি মুখ্যসচিব পদে বসিয়েছে। অন্যদিকে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার মুখ্য পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা। এই দুই কর্মকর্তা বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। বিরোধী দলগুলো তখন থেকেই অভিযোগ করেছিল, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু, দলিতদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং জাতীয় স্তরেও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে, যদি নির্বাচন পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয়ে থাকে, তাহলে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এত দ্রুত বিজেপি সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসানো হল কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এতে স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে যে বিজেপি সরকার ভোট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের ‘পুরস্কৃত’ করছে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসও অভিযোগ করেছে, ‘নিরপেক্ষ আম্পায়ার’-দের পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে সুব্রত গুপ্তর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব শেষ হওয়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তাঁকে শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ যিনি ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই পরে সরাসরি বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক টিমে যোগ দিলেন।
সমালোচকদের বক্তব্য, গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে সেই নিরপেক্ষতার মুখোশ কার্যত খুলে গিয়েছে। ভোটের আগে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ, তারপর সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিজেপি সরকারের পুরস্কার- এই ধারাবাহিকতা দেখে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই ক্ষমতায় এসেছে? বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনাগুলো কেবল প্রশাসনিক নিয়োগ নয়, বরং গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর এক ভয়ঙ্কর প্রশ্নচিহ্ন।





