বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে নয়াদিল্লি

ছবি: রয়টার্স
শীতের আগমন, আর তার সঙ্গেই দিল্লির আকাশে ধোঁয়াশার চাদর। রাস্তায় বেরোলেই চোখ জ্বালা, গলায় খুসখুস, কাশি, শ্বাসকষ্ট। সকাল থেকে রাত দূষিত বাতাসের দাপটে কার্যত হাঁসফাঁস করছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দীপাবলির আগেই দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টায় দিল্লির সামগ্রিক বায়ুর গুণমান সূচক (একিউআই) পৌঁছেছিল ৩৯১-এ। অর্থাৎ ‘অতি খারাপ’ বা ভেরি পুওর স্তরে। শহরের ৫৯টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিতে তখন দূষণের মাত্রা ছিল ‘গুরুতর’ বা সিভিয়ার। রোহিণীতে একিউআই ৪৭৫ এবং আইআইটি দিল্লি এলাকায় ৪৭২।
আন্তর্জাতিক দূষণ সূচকেও উদ্বেগজনক ছবি। IQAir-এর ৬ নভেম্বরের লাইভ গ্লোবাল মেজর সিটি র্যাঙ্কিংয়ে দিল্লি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরগুলির তালিকায় প্রথম স্থানে। সেখানে মার্কিন একিউআই স্কেলে দিল্লির সূচক ছিল ২১৩। তবে এই আন্তর্জাতিক তালিকা ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলায় এবং এর মাপকাঠি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ভারতীয় একিউআই স্কেলের থেকে ভিন্ন ।
শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে দূষণের ভয়াবহ প্রভাব। সাম্প্রতিক লোয়ার সার্কেলের একটি সমীক্ষায় দিল্লি-এনসিআর-এর ১৯,৩২২ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারের অন্তত এক জন সদস্য দূষণজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ৫৬ শতাংশের অভিযোগ, গলা ব্যথা ও কাশি হচ্ছে। ৩৩ শতাংশের শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সংখ্যক মানুষ নাক দিয়ে জল পড়া ও নাক বন্ধ থাকার সমস্যার কথা জানিয়েছেন। চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা এবং ঘুমের সমস্যাও বাড়ছে। এরমধ্যে ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে অ্যালার্জির সমস্যা ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহেও পৌঁছতে পারে এই কণা। ফলে হাঁপানি, ক্রনিক ফুসফুসের অসুখ, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগা মানুষদের বিপদ বেশি। দূষণের কারণে স্কুলপড়ুয়াদের বাইরে খেলাধুলো, প্রবীণদের প্রাতঃভ্রমণ এবং সাধারণ মানুষের শরীরচর্চাও কার্যত বন্ধ হওয়ার জোগাড়।
দূষণের পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার নির্গমন, নির্মাণকাজের ধুলো, রাস্তার ধুলো এবং পঞ্জাব-হরিয়ানার খড় পোড়ানোর ধোঁয়া মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। দিল্লির দূষণে খড় পোড়ানোর অবদান ৫ নভেম্বর ছিল ১৫.৬ শতাংশ। শুক্রবার তা বেড়ে ১৯.২ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। 
দীপাবলির আগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দিল্লির বায়ুর মান ৭ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে ‘সিভিয়ার’ স্তরে পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করেছে বায়ুমান পূর্বাভাস ব্যবস্থা। অর্থাৎ উৎসবের মরসুমে আতশবাজির ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রশাসনের তরফে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি হলেও প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর শীত এলেই কেন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় রাজধানীকে? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রের বাসিন্দাদের কি প্রতি বছর বিষাক্ত বাতাসের সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটাতে হবে?



