শিলিগুড়ির আদালতে বিতর্ক
বিচারকের হিজাব দেখে এজলাসেই ‘জয় শ্রীরাম’

প্রতীকী ছবি
আদালতকক্ষে বিচারকের হিজাব দেখে এক অভিযুক্তের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর আদালত কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় হিজাব পরা মহিলা বিচারককে দেখে ওই স্লোগান দেন এক অভিযুক্ত। পরে তার আইনজীবী আদালতেই ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য যে, ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় মোট ২৪ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে , কয়েক বছর আগে একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ওই মামলার সূত্রপাত। সে সময় ‘লাভ জিহাদ’- এর অভিযোগ তুলে কয়েকজন বাঘাযতীন পার্ক এলাকা থেকে মিছিল করে শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে মহকুমাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন। পরে ওই ঘটনায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। বুধবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী অভিযুক্তরা শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের ৪ নম্বর এজলাসে হাজির হন। আদালতের কাজ শুরুর পর একে একে নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়া হচ্ছিল। তখনই এক অভিযুক্ত বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে ওঠেন বলে অভিযোগ।
তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিপ বিষয়টিকে বিচারককে উদ্দেশ করে দেওয়া স্লোগান হিসেবে মানতে চাননি। তার দাবি, বিষয়টি কাকতালীয় একটি ঘটনা । নাম ধরে ডাকার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ওই কথা বলে ফেলেন। আদালতে সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমা চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঘটনাটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি উদয় শঙ্কর মালাকার বলেছেন, আদালত কক্ষে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। তার মতে, আদালতের পরিবেশে এমন আচরণ কাম্য নয় এবং আদালত চাইলে নিজে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করতে পারত।
অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, আদালত ধর্ম, রাজনীতি ও অন্য সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ বিচারের জায়গা। সেখানে কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।



