আরএসএসের প্রচারক থেকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী

ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের চাপে পড়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন গতকাল শনিবার। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশী। তবে তার নিয়োগের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আরএসএস সংশ্লিষ্টতা। হুব্বলির ঈদগাহ ময়দান আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচিতি পাওয়া জোশী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কে চাপে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন এক নেতার হাতে তুলে দেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সমালোচকদের প্রশ্ন, যে মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যেই নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র চাপের মুখে সেখানে আবারও আরএসএসের সাংগঠনিক পটভূমি থেকে উঠে আসা এক নেতার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ২৭ নভেম্বর কর্নাটকের বিজয়পুরায় জন্ম প্রহ্লাদ ভেঙ্কটেশ জোশীর। হুব্বলির কেএস আর্টস কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি প্রথমে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হন। এরপরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে সংগঠনের আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। ১৯৯০ এর দশকের গোড়ায় হুব্বলির ঈদগাহ ময়দান আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত করে তোলে।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে প্রথমবার ধারওয়াড় থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন জোশী। এরপর ২০০৯, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে টানা পাঁচবার একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে কর্নাটকের বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী সাংসদে পরিণত হন। মূলত দলীয় সংগঠনের ভিতর থেকেই তার উত্থান। ধারওয়াড় জেলা বিজেপির সভাপতি, কর্নাটক বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি সংসদীয় বিষয়ক, কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বাণিজ্যিক কয়লা খনি নিলাম এবং বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পরিবেশবাদী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল জোশীকে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই সংসদ পরিচালনা করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি ছিল, বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভই সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করেছিল।
এরপর ২০২৪ সালে তিনি ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এখন সেই দায়িত্ব বজায় রেখেই শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করেন এবং প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
প্রহ্লাদ জোশীর রাজনৈতিক জীবন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষত আরএসএস-ঘনিষ্ঠ রাজনীতি, ঈদগাহ ময়দান আন্দোলন, কয়লা নীতি এবং সংসদ পরিচালনা নিয়ে। আর এমন এক সময়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এই নিয়োগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব বাছাইয়ে আরএসএসের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকেই বিজেপি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।






