আবার আন্দোলনের হুমকি ককরোচের

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এক দফা আন্দোলন থামলেও ভারতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে গ্রেপ্তার, হয়রানি, সিসিটিভি ও মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি জোরদারের মধ্যে ফের বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন এ সংগঠন। ফুঁসে ওঠা এ নতুন স্ফুলিঙ্গের মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ককরোচদের ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও।
নিট প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের চাপে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এমন পদত্যাগ বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর গত শনিবার সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে সিজেপি কর্মসূচি স্থগিত করে।
তবে সিজেপির অভিযোগ, সেই আশ্বাস ভঙ্গ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি না রাখলে আন্দোলন আবার শুরু করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) বিহার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিহার পুলিশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এবং আসামেও কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্টুন প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২০ ও ২২ জুলাই যন্তর-মন্তরের সহিংসতার কয়েকশ গিগাবাইট সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ দাবি করেছে, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর মামলার রেকর্ড রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটেজে ব্যারিকেড ভাঙা, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। এসএফআইয়ের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনার পর রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ককরোচ জনতা পার্টিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ছবি ও ভিডিও ছড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন ব্যানারের আড়ালে ‘দেশবিরোধী আন্দোলন’ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, আন্দোলনের মূল দাবি পূরণ হয়ে গেছে, তবু নতুন করে আন্দোলনের ডাকের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
তবে সিজেপির দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের একটি লক্ষ্য পূরণ হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন অব্যাহত থাকায় তাদের লড়াই শেষ হয়নি। সংগঠনটির ভাষ্য, গ্রেপ্তার, মামলা ও হয়রানি বন্ধ না হলে তারা আবারও রাজপথে ফিরবে।




