ভারতের ঝাড়খণ্ডে অভিনব ‘উন্মুক্ত জেল’
- দিনে বাইরে কাজ - সন্ধ্যায় আবার কারাগারে বন্দিরা

এআই নির্মিত ছবি
জেলের দরজা সাধারণত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মানুষকে । সেই চেনা ছবিটাই এবার খানিকটা বদলাতে চাইছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য। কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি জীবন কাটানোর বদলে, ভালো আচরণকারী কিছু বন্দি দিনের আলোয় বাইরে বেরিয়ে কাজ করবেন। নিজের শ্রমে অর্থ উপার্জন করবেন এবং সেই উপার্জনের অংশ দিয়ে নিজেদের পরিবারকে সাহায্য করবেন। তারপর আবার দিনশেষে ফিরবেন জেলেই। অর্থাৎ দিনে কাজ, আর রাতে কারাগার- ভারতের ঝাড়খণ্ডে বন্দি পুনর্বাসনের এমন অভিনব ব্যবস্থার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঝাড়খণ্ড মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও ঝাড়খণ্ড কারা দফতর বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে এপিসি নিউজ, দ্য ভয়েস নিউজ ও দ্য রাঁচি নিউজ।
রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড সরকারের এই অভিনব উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে আসে গত ৩০ আগস্ট। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে আরও আগে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। চলতি বছরের ৩০ জুলাই রাঁচির কাঁকে রোডে মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে রাজ্য সাজা পুনর্বিবেচনা পর্ষদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রাজ্যের সব জায়গায় উন্মুক্ত জেল তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করে প্রস্তাব জমা দিতে সেখানকার আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই বৈঠকেই আজীবন সাজাপ্রাপ্ত ৭৯ জন বন্দির মুক্তির বিষয়ও পর্যালোচনা করে ২৬ জনকে মুক্তির বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এছাড়াও মুক্তির পরে বন্দিদের পুনর্বাসন ও সম্মানজনক জীবনে ফেরানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এবার সেই ভাবনাই আরও এক ধাপ এগোচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রাঁচির বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় কারাগার, হাজারিবাগের জয়প্রকাশ নারায়ণ কেন্দ্রীয় কারাগার, পূর্ব সিংভূমের ঘাঘি ডিহ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং দুমকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্মুক্ত ও আংশিক উন্মুক্ত ব্যারাক তৈরির প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সংশ্লিষ্ট জেলগুলিতে ইতিমধ্যে ব্যারাক এবং কক্ষও চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক সুদর্শন মণ্ডল সোমবার জানিয়েছেন যে , নির্বাচিত বন্দিরা সকাল ৬টা বা ৭টার দিকে জেল থেকে বেরিয়ে কাজ করতে পারবেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা বাইরে থাকার পর সন্ধ্যায় তাঁদের আবার কারাগারেই ফিরতে হবে। চারটি জেলই শহরাঞ্চলে হওয়ায় কাজ ও
জীবিকা অর্জনের সুযোগ তুলনামূলক বেশি বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এই উন্মুক্ত জেল সবার জন্য নয়। ভালো আচরণ, কারাগারের নিয়ম মেনে চলা এবং সংশোধনের অগ্রগতিই এর হবে মূল মাপকাঠি। কারা প্রশাসন যোগ্য বন্দিদের বেছে নেবে। কারা মহাপরিদর্শক থাকবেন সদস্য-সচিব হিসেবে। বন্দির আচরণ, পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক উপযুক্ততা যাচাই করেই সুপারিশ করা হবে। এই ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে ঝাড়খণ্ড কারা ও সংশোধনমূলক পরিষেবা আইন, ২০২৫- এর উন্মুক্ত সংশোধনাগার সংক্রান্ত বিধান এবং সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশও। সুহাস চাকমা বনাম কেন্দ্র মামলায় শীর্ষ আদালত যেসব রাজ্যে কার্যকর উন্মুক্ত সংশোধনাগার নেই। সেখানে তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছিল। আলাদা প্রতিষ্ঠান তৈরি সম্ভব না হলে বিদ্যমান জেলের মধ্যেই উন্মুক্ত বা আংশিক উন্মুক্ত ব্যারাক তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। ফলে ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি অন্য রাজ্যগুলোও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে এই উন্মুক্ত কারাগার তৈরির। উদ্দেশ্য শুধু বন্দিকে কাজ দেওয়া নয়। সাজা শেষ হওয়ার আগেই তাদের দায়িত্ব, শ্রম, উপার্জন এবং পরিবার এই চারটি বাস্তবতার সঙ্গে ফের যুক্ত করা।







