এমএসএফের প্রতিবেদন
আগস্টে মবে নিহত ৩৫, পরিচয়হীন ৭১ লাশ উদ্ধার

ফাইল ছবি
জুলাইয়ের তুলনায় চলতি আগস্ট মাসে অপরাধের কিছু সূচকে স্বস্তি মিললেও মানবাধিকার পরিস্থিতির বড় কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে অবনতি। জুলাইয়ের তুলনায় এ মাসে বেড়েছে মব, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জুলাই ও আগস্টের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, চলতি মাসে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে।
আজ সোমবার সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগস্টে অন্তত ৭৮টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হয়েছেন। জুলাইয়ে নিহত ছিলেন ৩১ এবং আহত ৫৮ জন। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, জমি ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে এসব ঘটনার সূত্রপাত হলেও ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরেও মবের ঘটনা ঘটেছে।
এতে বলা হয়েছে, আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা জুলাইয়ের ৯৫ থেকে বেড়ে ২৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে প্রায় ১৮১ শতাংশ। অবশ্য নিহত ৭ থেকে কমে হয়েছে ৫ জন। বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘাত এ সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
পরিচয়হীন ৭১ মরদেহ
সংস্থাটি বলেছে, আগস্টে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনাও বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭১টি অজ্ঞাতনামা মরদেহ। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৫৬। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী এবং দুজনের বয়স ও লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। নদী, ডোবা, সড়ক, রেললাইন, সেতুর নিচ, ফসলি জমি ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছু মরদেহ ছিল গলা কাটা, বস্তাবন্দী বা হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। তবে প্রতিটি অজ্ঞাতনামা মরদেহকে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বা গুম হিসেবে চিহ্নিত না করে মৃত্যুর কারণ ও পরিচয় শনাক্তে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
সংখ্যালঘু নির্যাতন
এমএসএফ জানিয়েছে, আগস্টে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬টি। প্রতিমা ভাঙচুর, হামলা, হুমকি ও প্রাণহানির ঘটনায় নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারও জুলাইয়ের ৫ হাজার ১৯৬ থেকে বেড়ে আগস্টে ৫ হাজার ৬১৮ হয়েছে। বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ২ থেকে ১ এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ থেকে ৫ জনে নেমেছে।
প্রতিবেদনে মব ঠেকানো, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার বন্ধ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং অজ্ঞাতনামা মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।









