রংপুরে ৪ খুন: ১০ দিন পর আসামিদের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। ফাইল ছবি
রংপুরের আলোচিত চার খুনের ঘটনায় দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি; যদিও তারা মাদক সেবন করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন এবং গ্রেপ্তারের আট দিন পর গতকাল রবিবার ডোপ টেস্টের জন্য মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
একদিন পর আজ সোমবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘গতকাল জেলগেট থেকে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামফিটামিনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’
ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহে দেরি হওয়ার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়াসহ প্রক্রিয়াগত জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
চার খুনের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে আসামিদের ইয়াবা সেবনের বিষয়টিই বারবার সামনে এসেছিল। ইয়াবা হচ্ছে এমফিটামিন জাতীয় মাদক।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে, ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিনই ওই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানায়, এরাই একে একে হত্যা করেছিল গণপতির পরিবারের চারজনকে।
২৩ আগস্ট প্রথম দফায় এবং ২৭ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলন করেন আরএমপির বিদায়ী কমিশনার আবদুল মাবুদ। দুবারই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের স্বীকারোক্তির বরাতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন তারা।
দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি জানিয়েছিলেন, ঘটনার দিন রাত ১২টার পর বের হয়ে ইয়াবা কিনে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াবা সেবনের জন্য প্রথমে তারা গণপতির পাশের বাড়ির ছাদে ওঠেছিলেন। সেটি খোলামেলা থাকায় ইয়াবা সেবনের উপযোগী মনে হয়নি। তখন দুজন ছাদ টপকে গণপতির বাড়ির ছাদে এসে পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতে শুরু করেন।
গণপতি ছাদে উঠে দেখে ফেলায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, এরপর একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।
নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। দুজন মিলে চারজনকে হত্যার যে দাবি পুলিশ করছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে গণপতির পরিবারের।
এ মামলায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এরই মধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আলোচিত এই মামলা তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।









