রংপুরে চার খুন: সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই ডিবি হেফাজতে

রংপুরে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার বিকালে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও ভাই পার্থ দাসকে মামলার বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উপকমিশনার আরও জানান, এর আগেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসতে বলা হয়েছিল। তবে তারা কালক্ষেপণ করায় বাধ্য হয়ে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাতে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে।
ওই দিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রবিবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতেন। নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে দোতলা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিলেন তিনি। নিচতলার কাজ শেষ না হলেও দুই-তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে দোতলায় বসবাস করছিলেন।








