জীবনের জুটি গড়ে মাঠে ভাঙেন রুবেল

‘আলহামদুলিল্লাহ কবুল’ বলিয়ে দুজন মানুষের জীবনকে এক সুতোয় বাঁধেন মোহাম্মদ রুবেল। সেই রুবেলই ‘হাউজ দ্যাট’ উচ্চারণে মাঠে ভাঙেন দুই ব্যাটারের জুটি। চট্টগ্রামের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল পেশাদার ক্রিকেট খেলোয়াড়ের পাশাপাশি লম্বা সময় করেছেন কাজি বা বিয়ে নিবন্ধকের কাজ। বয়স ৩০ ছাড়িয়েছে, এই বয়সটায় অনেকেই জাতীয় দল থেকে ছিটকে যান। রুবেল এই বয়সেই উঁকি মারছেন জাতীয় দলের আশপাশে।
ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির ম্যাচে শুক্রবার এনটি স্ট্রাইক দলের বিপক্ষে রুবেল ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ৩ উইকেটে। বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স দলের হয়ে খেলছেন রুবেল, কোনো জাতীয় পর্যায়ের কোনো দলের হয়ে এবারই তার প্রথম বিদেশ সফর।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে রুবেল ছয় ম্যাচে নিয়েছেন ২০ উইকেট, খুব স্বাভাবিকভাবে তিনিই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনটি স্ট্রাইক দলের হামিশ মার্টিন ১১ উইকেট নিয়ে প্রায় অর্ধেকটা পেছনে। সবশেষ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ১০ ম্যাচে ২০ উইকেট, তার আগে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচে ১০ উইকেট আর বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৩ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন রুবেল।
বিপিএলের নিলামে শেষ মুহূর্তে তাকে দলে নেয় রাজশাহী, এ নিয়ে দলটির কোচ হান্নান সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমাদের আসলে সুনির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে সুনির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যাটারের বিপক্ষে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া। অফস্পিনারদের একটা বিশেষ ডেলিভারি থাকেই, যেমন অশ্বিনের ক্যারম বল বা হরভজনের দুসরা। তারও একটা রং-আন, ডানহাতি ব্যাটারকে পরাস্ত করে, অনেকটা লেগস্পিনের মতো আসে।’
সেই রহস্য এখনো ভেদ করতে পারেননি টপ এন্ড টি-২০ খেলতে আসা দলগুলোর ব্যাটাররা। ডারউইনে তখন রাত প্রায় ১২টা, ম্যাচ শেষে ক্লান্ত শরীরেও আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন রুবেল। জানিয়েছেন তার বোলিংয়ে রহস্য থাকলেও জীবন দর্শন সাদামাটা, ‘আমি ২০১০ কিংবা ১১ সালে, সবশেষ যেবার তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট হয় সেবার তৃতীয় বিভাগ বাছাইতে খেলেছিলাম। এরপর দ্বিতীয় বিভাগে ২০১৪ সাল থেকে খেলেছি সাত বছর, সবশেষ বার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হই। এরপর প্রথম বিভাগে, সেখানেও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। এরপর তো এনসিএল খেললাম, প্রিমিয়ার লিগে খেললাম, এখন এইচপিতে আছি। আমি মনে করি, আমার যেটা প্রাপ্য সেটা সঠিক সময়েই আমার কাছে আসবে। আগেও আসবে না পরেও আসবে না।’ কাজি হয়ে বিয়ে নিবন্ধনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বললেন, ‘আমার মামা কাজি। উনার সঙ্গে যেতাম, চট্টগ্রামের অনেক ক্রিকেটারের বিয়েই আমি পড়িয়েছি।’
প্রথম বিদেশ সফর, তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট বানিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে আসা। বল হাতে সাফল্য, জীবনের অন্যতম সেরা সময়টা পার করা রুবেল মনে করেন, বয়স তার ক্রিকেটে বাধা নয়, ‘আমাকে দেখলে কি মনে হয়, আমার বয়স ৩০ পার হয়েছে? আমি সবসময় নিজেকে ফিট রাখি, খেলার জন্য যা দরকার সব করি। আমি জাতীয় দল নিয়ে ভাবি না, সেটার জন্য নির্বাচকরা আছেন। আমি খেলে যেতে চাই, যতদিন ভালো লাগে।’







