ভারতের বর্ষা নিয়ে জাতিসেংঘের কড়া সতর্কবার্তা
পৃথিবীর আগুন আরও উসকে দিচ্ছে এল নিনো
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আগামী কয়েকমাসে খরা, দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে

ছবি: রয়টার্স
ভারতের বর্ষা, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করল জাতিসংঘ। শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েকমাসে ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে , জলবায়ু পরিবর্তনের আগুনে ঘি ঢালার কাজ করছে এল নিনো। তাঁর কথায়, পৃথিবী আগেই আগুনে জ্বলছিল। আর এখন এল নিনো সেই আগুন আরও উসকে দিচ্ছে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ডব্লিউএমও এর মৌসুমি জলবায়ু পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে , আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কোথাও অতিবৃষ্টি হবে, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর ভারতের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেড়েছে। যা দেশের কৃষি, জলসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আগামী কয়েকমাসে খরা, দাবানল এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং দক্ষিণপূর্ব দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিপরীতে আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকায়, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার বড় অংশ এবং উত্তর আমেরিকার কয়েকটি অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে।
গুতেরেস বলেছেন, মাত্র দুই মাস আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, এল নিনো দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু এখন তা ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশি এত দ্রুত এবং এত বেশি উষ্ণ আগে কখনও হয়নি বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, চলতি বছর ঋতুভিত্তিক তাপমাত্রার একাধিক রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। বিশ্ব এমন এক জলবায়ুগত পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, যার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। জীবাশ্ম জ্বালানির লাগামহীন ব্যবহারই এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
ডব্লিউএমও- এর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো সরকারগুলিকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যেও আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এল নিনোর পূর্বাভাসকে কাজে লাগিয়ে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এখনই সব দেশের পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। আবহবিদদের মতে, ভারতের অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনের বড় অংশ এখনও বর্ষাকালের উপর নির্ভর। ফলে বর্ষা দুর্বল হলে কৃষি উৎপাদন, পানীয় জলের জোগান, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই স্বাভাবিকভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছে জাতিসংঘ এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
ভাষান্তর: রুবাইয়া জেসমিন




