নেপালের পর কাশ্মীরেও কি বাজছে হিমবাহের ঘণ্টা
- ১৫৫ টি হ্রদের মধ্যে পাঁচটিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ’ পাঁচ হ্রদ ঘিরে বড় সতর্কতা

হিমালয়ের কাশ্মীর প্রান্তের হিমবাহ হ্রদগুলি নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম হয়েছে ভারতে।
নেপালের ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তার মধ্যেই হিমালয়ের কাশ্মীর প্রান্তের হিমবাহ হ্রদগুলি নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম হয়েছে ভারতে। গত ২ জানুয়ারি কাশ্মীর হিমালয়ে চিহ্নিত ১৫৫ টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে পাঁচটিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ’ বলে চিহ্নিত করেছে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ‘গ্লেসিয়েল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড সাসেপ্টিবিলিটি অ্যান্ড পোটেনশিয়াল ডাউনস্ট্রীম ইমিপ্লিকেশন্স অ্যাক্রস দ্য কাশ্মীর হিমালয়’ শিরোনামে প্রকাশিত সেই গবেষণা-ই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতে। গবেষণার সতর্কতা বিষয়ে সরকারকে সজাগ করতে নতুন নতুন প্রতিবেদন ছাপছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমও।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের 'জার্নাল অফ গ্লেসিওলোজি'-তে প্রকাশিত ওই গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতথ্যবিদ্যা বিভাগের বিজ্ঞানী ইরফান রশিদ। গবেষণায় ১৯৯২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে ২,৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় থাকা ১৫৫ টি হ্রদকে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে বরফের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হ্রদগুলির মোট আয়তন ৩২ বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকদের মতে, হ্রদের আয়তন ও চারপাশের ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন ভবিষ্যতে হিমবাহ হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা জিএলওএফ-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ পাঁচটি হ্রদ হল ব্রামসার, চিরসার, নুন্দকল, গঙ্গাবল ও ভাগসার। গবেষণায় ব্রামসারকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার পরে নুন্দকল, ভাগসার, চিরসার ও গঙ্গাবল। পাঁচটির সম্ভাব্য বিপর্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে প্রায় ২,৭০৪ টি বাড়ি, ১৫ টি বড় সেতু, একাধিক রাস্তা এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। নুন্দকল ও গঙ্গাবল হ্রদ ফেটে গেলে ১,১৮৪ টি বাড়ি, চারটি সেতু এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বিপদের মুখে পড়তে পারে। ভাগসারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে রয়েছে ১,১১৪টি বাড়ি, ছ’টি সেতু এবং মুঘল রোড।
অন্যদিকে, গত মার্চে আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়েচে। ১৯৭৫ সালের পর কিছু হিমবাহে আবার বরফের পুরুত্ব কমেছে ২৭ মিটার পর্যন্ত।
এই প্রেক্ষাপটেই নেপালের ২৬ আগস্টের বিপর্যয় নতুন করে সতর্ক করছে গোটা হিমালয়কে। ১ সেপ্টেম্বরের রয়টার্স প্রতিবেদনেও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক কন্নি উইগনারাজাও বলেছেন , জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে আগামী বছরগুলিতে হিমালয়ে হিমবাহ জনিত বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে।







