পশ্চিমবঙ্গ
বুলডোজারে ভাঙছে দোকান-বাড়ি, সরব মমতা

সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের বুলডোজার অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। সোমবার হাওড়ার শরৎ চ্যাটার্জি রোডে একটি নির্মীয়মাণ ভবন ভাঙতে নামে হাওড়া পৌরসভা। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) সদস্য। বুলডোজার দিয়ে ভবনের দোতলার সামনের অংশ ভাঙার পাশাপাশি হাতুড়ি দিয়ে ছাদ ভাঙার কাজও করা হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়। হাওড়া পৌরসভা জানিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত আরও কয়েকটি স্থাপনার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোতেও অভিযান চালানো হবে।
এর আগে শনিবার রাতে কলকাতার শিয়ালদহ ও হাওড়া রেলস্টেশন চত্বরে হকারদের দোকান উচ্ছেদ করে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, আগাম নোটিশ বা পুনর্বাসনের আশ্বাস ছাড়াই রাতের আঁধারে দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলও স্বীকার করেছে, এ বিষয়ে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিকমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, দরিদ্র মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বাংলা কখনো বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, ‘যে সরকার আগে ভাঙে, পরে মানুষের কথা শোনে, তারা বাংলার চেতনাকেই ভুলে গেছে। উন্নয়ন মানে দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের উচ্ছেদ করা নয়।’
সম্প্রতি তিলজলার একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর অভিযুক্ত মালিকের বাড়ি ভাঙার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। পরে এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন।
ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার ব্যবহারের নজির রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর বিভিন্ন বিজয় মিছিলেও বুলডোজার ব্যবহারের ঘটনা সামনে আসে।
এদিকে রবিবার কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় বুলডোজার অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মানুষের দাবি থাকতেই পারে। তবে তা আইনি উপায়ে জানাতে হবে। জড়ো হয়ে সহিংসতা বা পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




