ভারতীয় ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তলের কারখানায় রাশিয়ার হামলা

হামলার পর লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন একজন উদ্ধারকর্মী। ছবি : রয়টার্স
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তলের পরিচালিত ইউক্রেনের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ২ জন নিহত ও ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার রাতে দেশটির ক্রিভি রিহ শহরের খনি ও ধাতব শিল্প কমপ্লেক্সে এ হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে কারাখানা কর্তৃপক্ষ আর্সেলর মিত্তল।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় কারখানার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও ব্লাস্ট ফার্নেস কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ব্যাপক ড্রোন হামলার জবাবে মস্কো এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে, রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কিয়েভের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভরোবিয়ভ এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ‘ভয়াবহ ড্রোন হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, রাতভর চালানো এই হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
তার দাবি, মস্কোর কাছে কোয়েলেদিনো এলাকায় রাশিয়ার অনলাইন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও ড্রোন আঘাত হেনেছে।
এদিকে, পাল্টা রুশ হামলায় ইউক্রেনেও অন্তত ৭ জন নিহত ও ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি আবাসিক বাড়িতে বোমা আঘাত হানলে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৬৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসন অঞ্চলেও একজন করে নিহত হয়েছেন। সুমিতে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও চারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজেছে। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এতে এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রাশিয়া জানিয়েছে, শনিবার রাতে কিয়েভে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী ফায়ারপয়েন্ট কারখানা এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানা।
রাশিয়ার হামলাটি এমন সময় হলো, যখন মস্কো ও দিল্লির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক একটি ঐতিহাসিক উচ্চতায় অবস্থান করছে। জ্বালানি এবং খনিজ তেল বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে দুদেশের সম্পর্ক এ অবস্থানে এসেছে।
মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার বাণিজ্য এশিয়ার দিকে মোড় নেয় এবং ভারত হয়ে ওঠেছে মস্কোর তেল বিক্রির অন্যতম প্রধান দেশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি দুদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যৌথ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া।
সূত্র : এনডিটিভি






