ন্যাটো সম্মেলন
রাশিয়াকে মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইবেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : রয়টার্স
তুরস্কের আঙ্কারা অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে মিত্রদের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তার এ সফরের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে। কিয়েভে গত সপ্তাহে দুইবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় জেলেনস্কির আঙ্কারায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সুযোগ খুঁজবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে তিনি অস্ত্র সহায়তা চাইবেন।
রাশিয়ার এই হামলাগুলো শক্তি নয় বরং দুর্বলতার লক্ষণ বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি এই যুক্তি তুলে ধরতে চান, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি মর্যাদাপূর্ণ শান্তির জন্য আলোচনায় বাধ্য করতে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার।
ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেলের শোধনাগার এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে সেখানে তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৩০টি ড্রোনের অধিকাংশকেই প্রতিহত করেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও অস্পষ্ট।
রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এখন পেট্রোলের জন্য মানুষের দীর্ঘ সারি এবং তেলের জন্য মারামারির ভিডিওতে সয়লাব। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিয়েভ যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে।
আকাশপথে যুদ্ধ তীব্রতর হলেও রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রোনগুলো সফলভাবে ঠেকানো গেলেও দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত মার্কিন পেট্রিয়ট ব্যবস্থা নেই।
সোমবার এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আজকের পৃথিবীতে ব্যালিস্টিক সন্ত্রাস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি না করাটা স্রেফ অযৌক্তিক। তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের মজুদ করা পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়া ব্যালিস্টিক অস্ত্র দিয়ে বাজি ধরছে এবং যারা শান্তি চায় তাদের অবশ্যই ব্যালিস্টিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষার ওপর নজর দিতে হবে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে কিয়েভের সাম্প্রতিক হামলাকে জেলেনস্কি প্রভাব বিস্তারের অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের লক্ষ্য —ডনবাস অঞ্চল আত্মসমর্পণ না করেই পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসানো। ইউক্রেনীয় ড্রোন এখন সীমান্ত থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার দূরের শোধনাগারেও আঘাত হানছে। এমনকি ক্রিমিয়াতে প্রতিদিনের হামলায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে মস্কোর।
এটা স্পষ্ট যে, জেলেনস্কি ন্যাটো এবং ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইবেন ইউক্রেন যুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিয়েভ চায় আসন্ন শীতের আগেই শক্তি অথবা কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ঘটুক, তবে তার জন্য প্রয়োজন আরও বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।
সূত্র : বিবিসি




