রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেই বার্নহ্যামের বৃটেন

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম- রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে ফোনে কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের সঙ্গে। ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
জার্মান চ্যান্সেলরের কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় হওয়া ফোনালাপে ইউক্রেনকে “ব্যাপক সমর্থন” দিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন মেৎস ও বার্নহ্যাম। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। দুই নেতা বলেছেন, লক্ষ্য থাকবে এমন একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যা অর্জন করা সম্ভব হবে আলোচনার মাধ্যমে।
বার্নহ্যামের এই অবস্থান ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের পর নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ইউক্রেন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল ইউরোপের কয়েকটি দেশের। বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়েছে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা ঐক্য বজায় রাখার পক্ষে।
জার্মানি বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম বড় সামরিক সহায়তাদাতা দেশ। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক জোট ‘ই৩’-এর সদস্য হিসেবে ইউক্রেন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে আসছে দেশটি। মেৎসের সরকার চেয়েছে, স্টারমারের মতোই যেন রাশিয়ার 'আগ্রাসনের' বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার অবস্থান বজায় রাখেন বার্নহ্যাম।
বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় মিত্র এবং ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম দিকের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে ইউক্রেন ইস্যু।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই নতুন ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ন্যাটো, ইউরোপীয় মিত্র এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্নহ্যামের সামনে এখন রয়েছে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনসেবার চাপ সামলাতে হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্টারমার সরকারের সময় তৈরি হওয়া ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রাখতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেৎসের সঙ্গে এই আলোচনার মাধ্যমে বার্নহ্যাম স্পষ্ট করেছেন যে তার সরকার ইউক্রেন প্রশ্নে হঠাৎ কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না। বরং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাশিয়ার ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার নীতিই ধরে রাখতে চাইছেন তিনি।




