ব্রিটেনের স্বার্থে ট্রাম্পকেও ‘ছাড় দেবেন না’ বার্নহ্যাম

ছবি: রয়টার্স
‘ব্রিটেনের স্বার্থ সব সময়ই সর্বাগ্রে’। এমনটাই মন্তব্য ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করতে তিনি প্রস্তুত কি না—বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
বার্নহ্যামের পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমার গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ, অভিবাসন, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে স্টারমারের সম্পর্ক ছিল টানাপোড়েনপূর্ণ।
শুরুতে ট্রাম্প স্টারমারের উত্তরসূরি বার্নহ্যামকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে সোমবার এক দশকের মধ্যে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বার্নহ্যামের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলে চলতি সপ্তাহে জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে বিবিসির সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গ বার্নহ্যামকে প্রশ্ন করেন, প্রয়োজন মনে করলে তিনি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমালোচনা করতে প্রস্তুত থাকবেন কি না।
জবাবে বার্নহ্যাম বললেন, ‘সব নেতাকেই তা করতে হয়। সবার আগে আপনাকে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাইলে সেটিই আপনার কর্তব্য।’
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৯ সালের আগে তিনি কোনো আগাম সাধারণ নির্বাচন ডাকবেন না।
তিনি বললেন, ‘আমি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিচ্ছি। হ্যাঁ, আগাম কোনো সাধারণ নির্বাচন হবে না। আমার মনে হয় না, মানুষ সেটাই চায়।’
ব্রিটেনের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ন্যাটো মিত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
ন্যাটোর নতুন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের অঙ্গীকার করেছে লন্ডন।
বার্নহ্যাম বললেন, ‘এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি আমাদের নির্ধারণ করতে হবে।’
তিনি আরও বললেন, ‘প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা। এ মুহূর্তে এটিই আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বছরের শেষ দিকে বাজেট উপস্থাপনের আগে ধাপে ধাপে আমরা বিষয়টি এগিয়ে নেব।’
বার্নহ্যামের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী জন হিলি আগের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি ২০৩০ সালের মধ্যে নিশ্চিত না হলে ব্রিটেন নিরাপদ থাকবে না—এমন মন্তব্য করার পর তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।




