ফ্রান্সে আশ্রয়ভাতা ক্যাশ করার নামে কমিশন বাণিজ্য, নজরদারিতে বাংলাদেশিরা

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতা (আদা) নগদ করে দেওয়ার নামে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্যারিস প্রিফেকচার সূত্রে জানা যায়, মূলত বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি ভাতা কার্ড ব্যবহার করে প্রকৃত কেনাকাটা ছাড়াই লেনদেন দেখিয়ে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। পরে নির্দিষ্ট হারে কমিশন কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে প্রশাসন আরও সক্রিয় হয়েছে।
ফরাসি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ভাতা ব্যবস্থার অস্বাভাবিক ব্যবহার শনাক্তে আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে একই কার্ডের ঘন ঘন ব্যবহার, মাসের শুরুতে অস্বাভাবিক বড় অঙ্কের ব্যয়, নির্দিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত লেনদেন এবং নগদ অর্থ আদান-প্রদানের প্রবণতাকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অভিবাসীদের উপর নজরদারি বিষয়ে প্যারিস প্রিফেকচারের ফ্রসোয়া বলেছেন, গার দ্য নদ, লা শাপেল, সারসেলসহ কয়েকটি এলাকায় আশ্রয়ভাতা কার্ডের অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে কিছু বাংলাদেশি, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।
ফরাসি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মোমিন আনসারি বলেছেন, অনেক নতুন আশ্রয়প্রার্থী ফরাসি নিয়মকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়ার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন।
অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, সরকারি ভাতা কার্ড ব্যবহার করে অনিয়মিত নগদ লেনদেন, ভুয়া কেনাকাটা বা কমিশনভিত্তিক আর্থিক কার্যক্রম ফরাসি আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে ইউরোপভিত্তিক অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফো মাইগ্রেন্টস আদালতের বরাত দিয়ে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে আশ্রয়ভাতা জালিয়াতির একটি বড় ঘটনা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয়প্রার্থীদের সরকারি ভাতা কার্ড ব্যবহার করে ভুয়া কেনাকাটার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
নিসের এই ঘটনা প্রকাশের পর আশ্রয়ভাতা ব্যবস্থার অপব্যবহার, ভুয়া লেনদেন এবং কমিশনের বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন এ ধরনের কার্যক্রম আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তামান্না জান্নাত বলেছেন, আমাদের (বাংলাদেশ) দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের আদা/ওএফআইআই কার্ড ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কার্ড অন্যের হাতে না দেওয়া, নগদ করার প্রলোভনে না জড়ানো এবং সব লেনদেনের রসিদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভাতার অপব্যবহার, ভুয়া কেনাকাটা বা অবৈধ নগদ লেনদেনে জড়িত থাকলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আশ্রয় আবেদন, আবাসন অনুমতি এবং ভবিষ্যত আইনি অবস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।




