কিউবার প্রেসিডেন্ট
কিউবায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে সৃষ্টি হবে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’

সংগৃহীত ছবি
কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করবে। আজ সোমবার এমন মন্তব্য করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল। এর ফলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর ধারণাতীত পরিণতি নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দিয়াস-কানেল এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘কিউবা কোনো হুমকি নয়।’
রবিবার প্রকাশিত অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের পর এ মন্তব্য করেন তিনি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবা ৩০০টির বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো ব্যবহার করে গুয়ান্তানামো উপসাগরে থাকা মার্কিন নৌঘাঁটি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে করেছে আলোচনা।
পৃথক এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস বলেছেন, ‘বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো’ কিউবারও অধিকার রয়েছে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাহ্যিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বৈধ আত্মরক্ষার।
তিনি আরও দাবি করেন, যারা কিউবার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে চায়, তারা সেটিকে ন্যায্যতা দিতে ব্যবহার করছে মিথ্যা অজুহাত।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওয়াশিংটনের কমিউনিস্ট প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত কিউবা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে দেশটি।
বর্তমানে দেশটিতে ফুরিয়ে গেছে জ্বালানি মজুদ এবং দিনে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগের সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ১৯৯৬ সালে মানবিক সহায়তাকারী সংগঠন ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ পরিচালিত দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় সাবেক কিউবান নেতা রাউল কাস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রসিকিউটররা।
৯৪ বছর বয়সী কাস্ত্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। কিউবার সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে দেশটিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।




