ভিয়েতনামের পর ইরানেও যুদ্ধ শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের, ভোট শিক্ষা ট্রাম্পের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পরাজয়ের লজ্জা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহের এক আদি ব্যামো! ইতিহাসের নাড়ি টিপলেই ভুরভুর করে নাকে আসে সে গন্ধ। আগ বাড়িয়ে আক্রমণ; পরে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে আসার নজিরও নেহাত কম নয়। আটলান্টিকের উত্তাল ঢেউয়ের মতোই তাদের অহংকার আছড়ে পড়েছে বিশ্বের আনাচে-কানাচে। কখনো পূর্ব এশিয়ার মেকং ডেল্টার গহিন অরণ্যে, কখনো মধ্যপ্রাচ্যের তপ্ত মরুভূমির চোরাবালিতে। যুদ্ধ লজ্জার প্রথম গ্লানিটা তাদের ঘরে ওঠে সেই ছেলেবেলাতেই। জন্মের (১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই) মাত্র ৯ বছরেই। ১৭৮৫ সালে। আলজেরিয়ার বিশাল নৌবাহিনীর কাছে। শেষ পর্যন্ত নাকে খত দিয়ে ডাঙায় ওঠে! সেটিও আবার জিম্মি মুক্তি ও বার্ষিক নজরানা (কর) শর্তে।
দুই দশক না ঘুরতেই আবার সেই আগের ভুল! ব্রিটিশ তাড়িয়ে কানাডা দখল-বাসনা। হাতে হারিকেন সেখানেও! উল্টো ওয়াশিংটন ডিসি পুড়িয়ে দেয় ব্রিটিশরা! এরপর রেড ক্লাউডস ওয়ার বা রেড ইন্ডিয়ান যুদ্ধ (১৮৬৬-৬৮)। তিন বছরের কোরীয় যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩)। তারপরই ভিয়েতনাম! আর সবশেষে ইরান যুদ্ধ! সবখানেই সেই একই লজ্জা— পরাজয়! শিক্ষার ধরনও সেই একই— প্রাণহানি, বর্বরতা, অর্থনৈতিক ধস, গণ-অসন্তোষ, বৈশ্বিক তিরস্কার। শিক্ষা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও। একেবারে হাতে হাতে। উল্টে গেছে পাশার দান। মুখের লাগাম টেনে ধরেছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। বুথ-ব্যালটের চপেটাঘাতে উড়ে গেছে বুট-বুলেটের দম্ভ। কংগ্রেসের দুকূল হারিয়ে (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) দিশাহারা। চোখে এখন অভিশংসন ভয়। বেশি বাড়লেই কেটে দেবে লেজ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগেও অবশ্য সে শিক্ষা পেয়ে গেছেন দেশটির ৩৪তম প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার। ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। ৩৬তম প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন। ৩৭তম প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। প্রথম জনের আমলেই (১৯৫৩-১৯৬১) শুরু হয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ। শেষের জনের হাতে শেষ। মাঝের একজন তো যুদ্ধের মাঝপথেই উগরে দিয়েছেন সে পোড় খাওয়া সত্য। ৪ মে, ১৯৬৫ সাল। ভিয়েতনামে তখন তীব্র হচ্ছিল মার্কিন সেনা পাঠানোর মাত্রা। সেদিন ওয়াশিংটনের এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেই চিরন্তন সত্য— ‘সেখানে টিকে থাকার জন্য আমাদের যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে এবং অন্য কোনো পথ খোঁজার জন্য আমাদের যথেষ্ট দূরদর্শী হতে হবে; তবে আমাদের কখনোই ভুলে গেলে চলবে না যে, চূড়ান্ত বিজয় শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মূলত সেখানে (ভিয়েতনামে) বসবাসকারী সাধারণ মানুষের হৃদয় ও মনের ওপর।’ (উই মাস্ট বি স্ট্রং এনাফ ট্র হোল্ড অন, অ্যান্ড ইউ মাস্ট বি প্রুডেন্ট এনাফ টু লুক ফর আদার অ্যাভিনিউস। বাট উই মাস্ট নেভার ফরগেট দ্যাট দ্য আলটিমেট ভিক্টরি ইউর ডিপেন্ড আপন দ্য হার্টস অ্যান্ড দ্য মাইন্ডস অব দ্য পিপল হু অ্যাকচুয়ালি লিভ আউট দেয়ার)।
যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটিই হয়েছিল ভিয়েতনামের পাঠশালায়। মার্কিন ইতিহাসের এক ধিকৃত অধ্যায়। আমৃত্যু অনুশোচনা। শিক্ষা তো বটেই; আজন্ম কলঙ্কও! টানা ২০ বছর যুদ্ধ করেও হারাতে পারেনি ভিয়েতনামের গেরিলাদের। হাজার হাজার সেনা (৫৮,৩১৮), বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের (১৬৮ বিলিয়ন) মাথায় ওঠেনি জয়ের মুকট। অথচ বিশ্ব শাসনের দম্ভে গায়ের জোরে; পায়ে পাড়া দিয়ে ১৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরের চরম দরিদ্র এক রাষ্ট্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন মুলুকের মাথাপিছু আয় তখন প্রায় ৭,৮০২ ডলার। সেখানে ভিয়েতনামের জিডিপি ৮৪ থেকে ১০০ ডলার মাত্র।
ডোমিনো তত্ত্ব (১৯৫৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার এই ভূরাজনৈতিক তত্ত্ব। এক ধরনের খেলার ঘুঁটি। প্রথমটি ফেলে দিলে এক এক করে পড়ে যায় পরের সব।) ও পররাষ্ট্র খেয়ালের ‘কমিউনিজম প্রতিরোধ নীতি’তে হামলা চালায় চীন, সোভিয়েত ইউনিয়ন-সমর্থিত উত্তর ভিয়েতনামে। দক্ষিণ ভিয়েতনামে তখন অ-কমিউনিস্ট সরকার। যুক্তরাষ্ট্রপন্থী। ১ নভেম্বর ১৯৫৫ সাল। সামরিক সাহায্য সংস্থা পুনর্গঠনের নামে মিলিটারি অ্যাসিট্যান্স অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (এমএমএজি) গঠন করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরুর অফিসিয়াল দিন। শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। ১৯৭৫ সালে। মার্কিন দম্ভের দেউড়িতে প্রথম ঐতিহাসিক লজ্জা। উত্তর ভিয়েতনামের শহরে শহরে সেদিন হাজারো মানুষের বিক্ষোভ। রাজধানী সাইগনে মার্কিন দূতাবাসের ছাদ থেকে হেলিকপ্টারে করে যুক্তরাষ্ট্রের পলায়ন। দিন ওঠার আগেই। ভোর ৪টা ৫৫ থেকে ৫টায়। ছাদে নামল মার্কিন মেরিন কর্পসের একটি বিশেষ হেলিকপ্টার। দূতাবাস ঘিরে তখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ ভিয়েতনামির পাহারা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল, দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা গুটিয়ে পালিয়ে যান রাষ্ট্রদূত গ্রাহাম মার্টিন। সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে একইভাবে ওই ছাদ থেকেই পালিয়ে যান ১১ জনের শেষ দলটিও। সে লজ্জা আজও হয়তো ভেতর ভেতর কুরে কুরে খায় নিজেকে বিশ্ব পুলিশ ভাবা এই মোড়ল রাষ্ট্রকে! এরপর আফগানিস্তানের তালেবান দাপটে কাবুল রানওয়েতেও মার্কিন বাহিনীর দৌড় দেখেছে গোটা বিশ্ব। পরদেশ শাসন খায়েশের উচিত শিক্ষা পেয়েছে সেখানেও। কিন্তু ভিয়েতনামের সেই ভয়ংকর ‘ভিয়েতনাম সিন্ড্রোমের মতো নয়। যার নাম শুনলে আজও কেঁপে ওঠে মার্কিন বাহিনীর পায়ের তলার বুট। মনে পড়ে যায় গহিন জঙ্গলের ভেতর হাজার হাজার কিলোমিটারের ‘গেরিলা টানেল’। যার ভেতরে ছিল শত শত মানুষের ঘর-সংসার। হাসপাতাল। সেখানেই হতো কৃষক-শ্রমিকের যুদ্ধপ্রশিক্ষণ। পেটের দায়ে যারা সারা দিন কাজ করত, রাত নামলে তাদের কাঁধেই রাইফেল।
টানেলগুলো ছিল মৃত্যুফাঁদ। সুড়ঙ্গের মেঝেতে গর্ত করে সেখানে মলমূত্র বা বিষ মাখানো ধারালো বাঁশের শলাকা (পুঞ্জি স্টিক) পুঁতে রাখা হতো। কোনো সেনা পা দিলেই তা বুট ভেদ করে মাংসের গভীরে ঢুকে যেত, ফলে বিষাক্ত ইনফেকশনে মৃত্যু হতো নিশ্চিত। গোপন দেয়ালে বেঁধে রাখত বিষাক্ত ‘বাঁশ বোড়া সাপ’। অন্ধকারে টানেল হাতড়ে যাওয়ার সময় এই সাপগুলো তাদের মুখে বা গলায় কামড়ে দিত মার্কিন সেনাদের। থাকত অদৃশ্য সুতো বা তারের বিছানার ফাঁদ। পা লাগলেই বিকট বিস্ফোরণ। সে কী বীভৎস দিন গেছে মার্কিন বাহিনীর! ঘরে ঘরে তখন কফিন ফিরছিল। সেনা সংকটে বাধ্যতামূলক যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল ১৮ ঊর্ধ্ব তরুণদের।
বুলেটের চেয়ে ভয়ংকর ছিল মশার কামড়
যুদ্ধে বুলেটের চেয়ে বড় ভয় ছিল মশার কামড়। সম্মুখ সমরের ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বেশি সেনাসদস্যকে অকেজো করে দিয়েছিল জঙ্গলের মশা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে ম্যালেরিয়ার কারণে হাজার হাজার মার্কিন সেনা হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়, যা তৎকালীন যুদ্ধক্ষেত্রের হতাহতের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকটি মার্কিন ব্যাটালিয়ন তো ম্যালেরিয়ার তীব্র প্রকোপের কারণে সাময়িকভাবে যুদ্ধ করার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছিল। বাগ জুস নামের একধরনের ওষুধ মেখে জঙ্গলে ঢুকত সেনারা; কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভ্যাপসা গরমে ২-৩ মিনিটেই জল হয়ে যেত সে জুস! গায়ে থাকত না।
যুদ্ধের পর কী হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে
এই যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন জনগণের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের চিড় ধরে। তৈরি হয় ‘ভিয়েতনাম সিনড্রোম’। যার অর্থ হলো, নিশ্চিত জয় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে চরম অনীহা ও ভয়। এই ভয়ের কারণে পরবর্তী প্রায় দুই দশক মার্কিন প্রশাসন সরাসরি বড় কোনো বিদেশি আগ্রাসনে জড়ানো থেকে বিরত থাকে।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জনসন এই বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটানোর জন্য জনগণের ওপর কর বৃদ্ধি করতে চাননি। ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি শুরু হয়, যা ১৯৭০-এর দশক জুড়ে আমেরিকার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রেখেছিল। বড় পরিবর্তন আসে সামরিক নীতিতেও। যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে এই বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগপ্রথা বাতিল করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সেনাবাহিনী গঠন করা হয়। ৭ নভেম্বর (১৯৭৩) ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ পাস করে কংগ্রেস। যেন অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে কোনো দেশে সেনা পাঠাতে না পারেন প্রেসিডেন্ট। নষ্ট হয় বৈশ্বিক দম্ভও।
বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তি হিসেবে যে একচ্ছত্র আধিপত্য ও নৈতিক অবস্থান ছিল, যুদ্ধের নিষ্ঠুর রণকৌশলে (মাই লাই গণহত্যা, ক্ষতিকারক এজেন্ট অরেঞ্জ ও নাপাম বোমার ব্যবহার) কারণে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
একই শিক্ষা ইরানেও
কামানের গোলা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। ভিয়েতনামের জঙ্গল থেকে ইরানের মরুভূমি— সবখানেই বারবার চিরন্তনের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি রণাঙ্গন ওয়াশিংটনকে শিখিয়েছে, অস্ত্রের আস্ফালন দিয়ে একটি স্বাধীনচেতা জাতির সত্ত্বাকে দাস বানানো যায় না। কিন্তু ইতিহাসের সেই পুরনো ক্ষত থেকেও পূর্ণ এলেম আসেনি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের। হয়তো সে কারণে আজ নিজের ঘরেই তাদের পড়তে হয়েছে আরেক নতুন সংকটে। ৩ নভেম্বরের ব্যালট বিপ্লব। অকারণ ইরান হামলায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা মধ্যবর্তী এ নির্বাচনে ভোটের রায়ে বয়কট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতিকে। ছিনিয়ে নিয়েছে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সিনেটের ১০০ আসনের ৫৪টিই এখন বিরোধীদের। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের ২৫৩টিই হাতছাড়া। অর্থাৎ ট্রাম্পের ‘আমি সব’ ভাবটা এক ধাক্কায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে জনগণ।
২৮ ফেব্রুয়ারি। লোকদেখানো অজুহাতে ভিয়েতনামের মতোই ইরানে বর্বর হামলা চালান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আক্রমণের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ স্তরের প্রায় ৪০ থেকে ৪৮ জন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন। তারপর থেকেই শুরু হয় যুদ্ধ। ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা-পাল্টা হামলার বারুদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে উচিত শিক্ষা দিতে বিশ্ব জ্বালানি পরবহনের ‘হরমুজ’ দুয়ার বন্ধ করে দেয় ইরানও। যার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, আগুন লেগেছে বৈশ্বিক দ্রব্যমূল্যেও।
ওয়াশিংটনের বিখ্যাত পলিসি থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস বলছে, যুদ্ধকালীন আমেরিকার প্রতি পরিবারের ওপর পরোক্ষভাবে প্রায় ২,০০০ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির বোঝা চেপেছে। এ পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের। যুদ্ধের এই অযাচিত খরচ বহন করতে গিয়ে বেকারত্ব বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মজুদ ফুরাতে বসেছে গোলাবারুদের। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রক্ষা করবে, মার্কিনিরাই কাণ্ডারি— মাত্র ৮ মাসেই সেই ভরসা হারিয়েছে মিত্ররা। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মহাশক্তির বন্ধু থাকতেও পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব। একই দশা ইউরোপেও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শত ডাকেও ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেনি ন্যাটো। মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই নিজেদের বড় ‘বিপদ’ বলে মনে করে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্য উপসাগরীয় বন্ধুরাও।



