ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন : মার্কিন গোয়েন্দা দাবি

ম্যানপ্যাড ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি : সংগৃহীত
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এমন দাবি মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার। শনিবার ভোরে সূত্রের বরাতে এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএনের সংবাদটি এমন সময় প্রকাশ হলো, যখন সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আজ দুপুরে পাকিস্তানে এসে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, গত মধ্যরাতেই ইসলামাবাদ এসেছেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল।
এমন পরিস্থিতিতে চীনের এ পদক্ষেপ হবে উস্কানিমূলক। বিশেষ করে, গত বুধবারের যুদ্ধবিরতিতে বেইজিং সাহায্য করেছে বলে মনে করা হয়। যুদ্ধবিরতির পর বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনের জড়িত থাকার কথা অনুমান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এছাড়া আগামী মাসের শুরুতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য থেকে এটাও স্পষ্ট হয়, যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র ব্যবস্থা পুনরায় পূরণ করার সুযোগ নিচ্ছে তেহরান।
দুটি মার্কিন সূত্রের দাবি, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে চালানগুলোর আসল উৎস গোপন করতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সেগুলো ইরানে পাঠানোর চেষ্টা করছে বেইজিং।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, চীন আকাশ প্রতিরক্ষার যে ব্যবস্থাগুলো হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো কাঁধে বহনযোগ্য বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। যা ম্যানপ্যাড নামে পরিচিত। ৪০ দিনের যুদ্ধে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য বড় ধরণের হুমকি তৈরি করে এসব ম্যানপ্যাড।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র অবশ্য এ দাবিকে বলেছেন সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ভাষ্য, চীন এই সংঘাতের কোনো পক্ষকেই কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি; তথ্যটি প্রশ্নবিদ্ধ ও অসত্য। চীনা মুখপাত্রের ভাষ্য, একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালন করে আসছে চীন। মার্কিন পক্ষকে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে আহ্বান জানাই বিরত থাকার; সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উত্তেজনা প্রশমনে আরও বেশি সহায়তা করবে বেইজিং।
এদিকে, পাকিস্তানের রাজধানীতে ইসলামাবাদ টকস নামে আজ (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা। যুদ্ধবিরতির আলোচনা কতক্ষণ চলবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সীমা নেই। তবে মনে করা হচ্ছে, এটি মনে করা হচ্ছে দিনভর।
ইসলামাবাদ থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনা চলতে পারে রবিবার পর্যন্ত। গত বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে আলোচনা। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় শনিবারেই হবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা- ‘ইসলামাবাদ টকস’।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলা করে তেহরান।
পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মার্চের শুরুতে তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিলে লেবাননে নির্বিচার হামলা চালায় ইসরায়েল।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির তীব্র সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে ইসলামাবাদ। প্রথম দফায় সাময়িক যুদ্ধ বন্ধ হয়। এবার একে স্থায়ী রূপ দিতে আলোচনায় বসছে দুপক্ষ। কিন্তু গভীর অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এই আলোচনাকে ফেলেছে হুমকির মুখে।
২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক উন্নয়ন বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে পারমাণবিক চুক্তিটি বাতিল করেছিলেন। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার এ আলোচনা হবে, ১৯৭৯ সালের তেহরানে ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক।
















