ছবি প্রত্যাহারের ই-মেইল, তবুও মস্কোতে নির্বাচিত ‘অতল’

সংগৃহীত ছবি
নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আবারও মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছেন যুবরাজ শামীম। এবার নির্বাচিত হলো তার পরিচালিত ‘অতল’। উৎসবটির ৪৮তম আসরে ‘অ্যাপোক্যালিপ্স নাউ’ বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ছবিটি। এছাড়া নেটপ্যাক প্রতিযোগিতা বিভাগেও অংশ নেবে এটি।
যুবরাজ শামীমের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘আদিম’ ২০২২ সালে ৪৪তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। সেই আসরে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড ও নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড সম্মান অর্জন করেছে ছবিটি।
তবে এবারের ঘটনা আরও বিস্ময়কর। ব্যক্তিগত কারণে ‘অতল’ চলচ্চিত্রটি উৎসব থেকে প্রত্যাহারের জন্য আয়োজকদের কাছে ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন যুবরাজ শামীম। কিন্তু তাতেও ছবিটি বাতিল করা হয়নি। ফলে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত মস্কোতেই জায়গা করে নিল ‘অতল’।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শামীম জানান, ২০২৩ সালে মস্কো উৎসবে বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়ার সময় প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ইভান কুদ্রিয়াভৎসেভের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলাপ হয়। তখন ইভান বলেছিলেন, ‘একজন মা যেমন সুন্দর গল্প বললে সন্তানেরা পরের গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকে, তেমনই আমরা আপনার পরবর্তী ছবির অপেক্ষায় আছি।’
এই কথায় আপ্লুত হলেও নির্মাতা ভেবেছিলেন, তার পরের ছবির প্রিমিয়ার অন্য কোনো বড় আন্তর্জাতিক উৎসবে করবেন। সে অনুযায়ী ‘অতল’ ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি সেগুলোতে অংশ নেননি। কারণ ইউরোপের আরও বড় দুটি উৎসব ছবিটিকে বিবেচনায় রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব জায়গায় সুযোগ না পাওয়ায় ‘অতল’ মস্কোতেই নির্বাচিত হয়।
পরবর্তীতে ব্যক্তিগত জটিলতার কারণে ছবিটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও আয়োজকরা সেটি গ্রহণ করেননি। ফলে নির্মাতার ভাষায়, ‘বুঝতে পারলাম, মস্কোই ছবিটির গন্তব্য।’
যুবরাজ শামীমের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ-এর ব্যানারে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অতল’। এর ইংরেজি নাম ‘ইন বিটুইন লিভিং’। অস্তিত্বসংকটে ভোগা একজন মানুষের মনোজগৎকে ঘিরে এর গল্প। তার প্রায়ই মনে হয়, সে মরণোত্তর জীবনযাপন করছে! কখনও সে ভাবে, অন্য কারও অসমাপ্ত জীবন নিয়ে বেঁচে আছে, যেখানে সময় ও চারপাশের সবকিছু যেন থমকে গেছে।
ছবিটিতে অভিনয় করেছেন নাঈম আহমেদ। তিনিই ছবিটির চিত্রগ্রহণ করেছেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে যুবরাজ শামীম বলেন, ‘আমরা স্কুটারে চড়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। যেখানে মনে হয়েছে সংযোগ তৈরি হচ্ছে, সেখানেই ক্যামেরা বসিয়েছি। নাঈম ক্যামেরা সেট করে সামনে দাঁড়িয়ে গেলে আমার কাজ ছিল শুধু অন-অফ করা।’
‘আদিম’-এর মতো ‘অতল’ খুব স্বল্প বাজেটে নির্মিত। এ প্রসঙ্গে যুবরাজ শামীম বলেন, ‘আমার কাছে চলচ্চিত্র নির্মাণ কবিতার মতো। কেউ কবিতার বাজেট নিয়ে প্রশ্ন করে না; গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়া এবং সেই অভিজ্ঞতার মধ্যে থাকা।’
আগামী ১৬ এপ্রিল এবারের আসরের পর্দা উঠবে। সেদিনই শামীম ও নাঈম তুষার মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ‘অতল’-এর প্রদর্শনী হবে ১৯ এপ্রিল। উৎসবের সমাপনী ২৩ এপ্রিল।















