‘নিজস্ব মতবাদ’ প্রচারের অভিযোগে পীরকে পিটিয়ে হত্যা

‘মবের’ হাতে প্রাণ গেল আরও একজনের। এবার ভণ্ড পীর আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো আবদুর রহমান শামীম জাহাঙ্গীর (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে। আজ শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে নৃশংস এ ঘটনা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে হত্যার আগে হামলা হয় তার আস্তানায়, দেওয়া হয় আগুনও।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানালেন, উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে ধর্ম অবমাননা ও বিকৃতির অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সঞ্চার হচ্ছিল ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বশেই শনিবার আইন হাতে তুলে নিলেন গ্রামবাসী। পিটিয়ে গুরুতর আহত করলেন জাহাঙ্গীরকে। পরে হাসপাতালে নিয়েও বাঁচানো যায়নি তাকে।
বিক্ষুব্ধ কয়েকজনের ভাষ্য, উপজেলার ইসলামপুরে ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীরের দরবার শরিফ’ নামে আখড়া চালাচ্ছিলেন ওই প্রবীণ। সম্প্রতি তার ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্যসহ কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ালে বাড়ে উত্তেজনা।
তাদের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর প্রচার করতেন নিজস্ব মতবাদ, ধর্মীয় অনেক আচার-আচরণ পালন করতেন নিজের রীতিতে। ধর্মীয় বিধান নিয়েও নানা সময়ে করতেন বিতর্কিত মন্তব্য।
হয়রানির শিকার হওয়ার শঙ্কায় নাম প্রকাশ না করে ঘটনার বর্ণনা দিলেন কয়েক বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি— শনিবার সকালে জাহাঙ্গীরের কর্মকাণ্ড নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে তার দরবারে হামলা চালায় কয়েকশ মুসল্লি ও এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা আস্তানায় ভাঙচুর করার পর আগুনও দেয় সেখানে। এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের করা হয় মারধর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে যায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
‘আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। ভর্তির ৫ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়’, বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন।
হামলা ও গণপিটুনির তথ্য নিশ্চিত করলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন। ‘তৌহিদী জনতার বিশাল মব তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল পরিস্থিতি। আমরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি তাকে। এটি আমাদের জন্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতা।’
জাহাঙ্গীর সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানালেন, ঢাকায় স্নাতকোত্তর শেষ করে দীর্ঘদিন করেন শিক্ষকতা। পরে এলাকায় ফিরে গড়েন আস্তানা। তার বিরুদ্ধে প্রথম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয় ২০২১ সালের মে’তে। গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগও করেছিলেন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় জড়ান আগের কর্মকাণ্ডে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে স্থানীয়দের ক্ষোভ; যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটল গণপিটুনির ঘটনা।















