শ্রম ইস্যুতে বাড়ছে মার্কিন শুল্ককোপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। শ্রম অধিকার ও ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর)। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়ে যাবে ২৯ শতাংশ, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর এ প্রস্তাবনা পেশ করে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৬০টি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বা বিপণন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বিশ্ববাজারে ‘অসম প্রতিযোগিতার’ সম্মুখীন হচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রিটেনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। বাকি ৪৫টি দেশের ওপর তারা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের ধাক্কাটি বেশ জোরালো। চলতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের পণ্যে মার্কিন ‘কাউন্টারভেইলিং ডিউটি’ বা পাল্টা শুল্ক নির্ধারিত ছিল ১৯ শতাংশ। এখন নতুন করে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ যুক্ত হলে বাংলাদেশি পণ্য মার্কিন বন্দরে প্রবেশ করতেই ২৯ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, ২৯ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো যদি কম শুল্কের আওতায় থাকে, তবে মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
শুধু শ্রম ইস্যু নয়, বাংলাদেশের পোশাক ও সিমেন্ট খাতে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ আছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১১ মার্চ শুরু হওয়া এই তদন্তের ফলও দ্রুতই প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে ইউএসটিআর। যদি সেখানেও নেতিবাচক কিছু আসে, তবে শুল্কের বোঝা আরও
বাড়তে পারে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের কিছু শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল হওয়ার পর, এখন নতুন আইনি প্রক্রিয়ায় এই শুল্ক কার্যকর করতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন। আগামী ২৪ জুলাইয়ের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে শ্রম অধিকার পরিস্থিতির উন্নতির প্রমাণ দেওয়া এবং শুল্কহার সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানানো। অন্যথায় আটলান্টিকের ওপারের এই বিশাল বাজারটি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।




