আজ একনেকে উঠছে
তিন জেলা পাচ্ছে দেড় হাজার কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা সড়ক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা (১৪৯২ কোটি ৫০ লাখ)। এজন্য হাতে নেওয়া হচ্ছে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন’ নামের একটি নতুন প্রকল্প। এর আওতায় ১ হাজার ৮৩৬ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ করা হবে। আজ বুধবার এটি উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে হতে যাওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ তিন জেলার কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাত তথা সার্বিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুরের— অর্থাৎ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সহজতর হবে। ফলে প্রকল্প এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দারিদ্র্যবিমোচন ত্বরান্বিত হবে। এসব দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে। এখন অনুমোদন পাওয়া না পাওয়াটা নির্ভর করছে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির ওপর।
এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকার জনগণ কৃষি-অকৃষিজাত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সেবা খাতসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় এনে দিনাজপুরের লিচু ও নানা জাতের সুগন্ধি চাল, ঠাকুরগাঁওয়ের আম, পঞ্চগড়ের চাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি এবং অকৃষিজাত পণ্যের বাজারজাত সহজ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বর্তমান কর্মসংস্থানগুলো আরও সংহত করে সার্বিক দারিদ্র্য কমিয়ে এবং পল্লী উন্নয়নের অন্যান্য সুফল যেমন— স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও মানব উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি, নানা প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ এ জেলাগুলোর পর্যটনশিল্প বিকাশ দরকার। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে মির্জা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৫ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্য সমীক্ষা করা হয়। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য বলে সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল।
সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রকল্পটি সেবাধর্মী এবং প্রকল্প থেকে সরাসরি কোনো রাজস্ব আদায় হবে না। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রকল্পটি লাভজনক বলে বিবেচিত হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তিন জেলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রাম, বাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবিধা বাড়ানোর জন্য ২১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ১৭১ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৮৪২ দশমিক ৫২ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক টেকসইভাবে উন্নয়ন এবং ৪১০ মিটার সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হবে।
আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে গ্রামীণ জনশক্তির শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রকল্প এলাকায় ১০ হাজার ৯৩ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার কাঁচা গ্রাম সড়ক, ৮৬৯ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার কাঁচা ইউনিয়ন সড়ক এবং ৭৪ দশমিক ৬২ কিলোমিটার কাঁচা উপজেলা সড়ক রয়েছে।




