বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ

৪৭তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ হয়েছেন এমন ভুয়া পোস্ট করেছেন মোশাররফ। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখে মনে হবে খুবই মেধাবী এক যুবক। টিকেছেন ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে, ৪৭তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারে, এমনকি ৪৯তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারেও। বিভিন্ন সরকারি চাকরির সুপারিশপ্রাপ্তির এমনই ভুয়া খবর মোশাররফ হোসেনের ফেসবুক জুড়ে।
চাকরিপ্রাপ্তির মিথ্যা তথ্য দিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন তিনি। তারপর দুর্বলতার সুযোগে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।
অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মোশাররফ হোসেন (২৮)। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে আটক করা হয় তাকে। তার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামে।
ছাত্রাবাসের বাসিন্দারা জানান, নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রাবাসে ওঠেন তিনি। কয়েক দিন আগে তারা জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ছাত্রাবাস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। মঙ্গলবার ভোরে নিজের মালামাল নিতে ফিরে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার প্রতারণার নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে মাধ্যমিক পাস বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মোশাররফের আটকের খবর পেয়ে রাঙামাটি থেকে প্রতারণার শিকার দাবি করা এক তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসেন দিনাজপুরে। এ ছাড়া নীলফামারী থেকেও এক তরুণীর অভিভাবক দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সঙ্গে করেছেন যোগাযোগ। মোশাররফের ব্যবহৃত মুঠোফোনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।
রাঙামাটি থেকে আসা ওই তরুণী দাবি করেন, কয়েক মাস আগে মুঠোফোনে মোশাররফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত মার্চ মাসে মোশাররফ তাকে জানান, তিনি ৪৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। তার ভাষ্য, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে মোশাররফ কয়েক দফায় তার কাছ থেকে নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা। পরে টাকা ফেরত না পেয়ে কক্সবাজার থানায় প্রতারণার মামলা করেন তিনি।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মোশাররফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। এছাড়াও আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। সেসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




