আজ একনেকে উঠছে
কমছে ২১৯৫ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন প্রকল্প থেকে কমছে বৈদেশিক ঋণের ২ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় নেওয়া ঋণে প্রকল্পটির কাজ চলছে। কিন্তু শেষে দিকে এসে ধীরগতিসহ নানা কারণে প্রকল্পটি সংশোধন করতে হয়েছে। এতে বাদ দিতে হয়েছে অনেকগুলো লাইনের নির্মাণকাজ। সেই সঙ্গে মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে প্রকল্পটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্প গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য শঙ্কার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে এটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বুধবার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানতে চাইলে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কামাল আতাহার হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পের কাজ কমে যাওয়ায় ভারতীয় ঋণের অর্থ কমেছে বলে জেনেছি। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনে যখন পিইসি সভা হয়েছিল, তখন প্রশ্ন তুলেছিলাম মাঝপথে কেন প্রকল্পের নকশা বদল করতে হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগে রূপপুর থেকে ঢাকা আমিনবাজার সাবস্টেশন পর্যন্ত বিদ্যুৎ নিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিল। এখান থেকে আবার টাঙ্গাইলে নিয়ে যাওয়া হতো বিদ্যুৎ। কিন্তু তখন টাঙ্গাইলে সাবস্টেশন ছিল না। পরে সেখানে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে একটি সাবস্টেশন হওয়ায় আর সঞ্চালন লাইন আমিনবাজার পর্যন্ত আনতে হবে না।
সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিশ্চিত করা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযুক্তি ও নিরাপদ পরিচালনায় হাতে নেওয়া হয় ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি। এটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৯৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে
সরকারি তহবিলের ১ হাজার ৫২৭ কোটি ৬৩ লাখ, ভারতীয় ঋণের ৮ হাজার ২১৯ কোটি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির নিজস্ব তহবিলের ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীতে এসে প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ৩২৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ৮ হাজার ৬৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কমেছে ভারতীয় ঋণের ২ হাজার ১৯৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া সরকারি তহবিলের ৭০ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের ৬৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু প্রথম সংশোধনীতে ছয় মাস কমিয়ে প্রকল্পটির গত জুন মাসে শেষ করা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ডিপিপির নীতিগত অনুমোদনে দেরি হয়। এ ছাড়া করোনা মহামারী এবং এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে প্রতিটি প্যাকেজের জন্য আলাদা প্রিকোয়ালিফিকেশন আহ্বান করে ঠিকাদারের শর্টলিস্ট তৈরি করা, বিড ডকুমেন্ট চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার নির্মাণ স্থান ও তার টানানো নিয়ে জনগণের বাধার কারণে দেরি হয়।




