হাতিয়ায় বিধ্বস্ত ১১ কিমি সড়ক ৩২ ব্রিজ-কালভার্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়েছিল নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। কমেছে বৃষ্টির পরিমাণ, নামতে শুরু করেছে পানি। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে কৃষি, মৎস্য, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।
সরকারি হিসাবে হাতিয়ায় কৃষিতে প্রায় ৩০ কোটি এবং মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজারের বেশি বসতবাড়ি, প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩২টি ব্রিজ ও কালভার্ট। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে দাবি স্থানীয়দের।
টানা বৃষ্টিতে হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। পাশাপাশি কাঁচা ঘরবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ-কালভার্টও। পৌরসভা এলাকায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও উপজেলা দুর্যোগব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলার ১ হাজার ৮৬৪টি পুকুর ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার। এ ছাড়া দুই হাজারের বেশি বসতবাড়ি, প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২টি ব্রিজ ও কালভার্ট।
স্থানীয়দের দাবি, খাল-নালা ভরাট, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সরু ব্রিজ-কালভার্ট এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সরকারি হিসাবের চেয়েও কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে তাদের ধারণা।
হাতিয়া পৌরসভার কৃষি উপসহকারী হাসান মাহমুদ আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, পৌরসভা এলাকার প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ৯০ শতাংশ আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সবজির ক্ষেতও প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে আউশ ধানের ক্ষেত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।




