Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
শিক্ষিত বেকারদের সহায় সুজন
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় রাজনীতি

আসিফ মাহমুদের সাক্ষাৎকার

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল ও সালেহউদ্দিনের নাম ছিল

  • সেনাবাহিনীর বড় অংশ জনগণের বিরুদ্ধে যেতে চায়নি
  • ৫ আগস্ট ১১টার দিকে দলগুলোকে ডেকেছিলেন সেনাপ্রধান
  • জাতীয় সরকার গঠন করার রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করা যায়নি
  • ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র দিতে না পারা বড় ভুল
আমজাদ হোসেন হৃদয়
আমজাদ হোসেন হৃদয়
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০৬
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল ও সালেহউদ্দিনের নাম ছিল

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গ্রাফিকস- আগামীর সময়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আন্দোলনের নেপথ্যের পরিকল্পনা, ডিবি কার্যালয়ের অভিজ্ঞতা, শীর্ষ সমন্বয়কদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এবং দুই বছর পর ফিরে দেখা নানা বিষয়ে আগামীর সময়-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকাতর নিয়েছেন আমজাদ হোসেন হৃদয়।

আগামীর সময়: জুলাইয়ে আন্দোলন কীভাবে ছাত্র থেকে ছাত্র-জনতায় রূপ নেয়?

আসিফ মাহমুদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষার্থী কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়। আবু সাঈদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে শুরু করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষ রাজপথে নামেন। ফলে আন্দোলনটি শিক্ষার্থীদের দাবির গণ্ডি পেরিয়ে একটি সর্বস্তরের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

আগামীর সময়: আপনিসহ সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

আসিফ মাহমুদ: বিকালে প্রথমে আমাকে, নাহিদ ভাই ও বাকেরকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আমি সেখানে ছয় দিন ছিলাম। পরে ধাপে ধাপে আরও কয়েকজন সমন্বয়ককে সেখানে নেওয়া হয়। প্রথম দিন থেকেই আমাদের ওপর আন্দোলন বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বারবার বলা হচ্ছিল, আন্দোলনের ডাকে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রাণ দিচ্ছে, তাই এসব ঘটনার দায়ও আমাদের। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোতে আমাদের নাম জড়ানো এবং পরিবারকে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল। একেক সময় একেক কর্মকর্তা এসে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে অন্যরা রাজি হয়ে গেছেন, এখন আমাদেরও সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে। পুরো সময় জুড়ে আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে।

আগামীর সময়: আন্দোলন স্থগিতের যে ভিডিও বার্তা প্রচার হয়েছিল, সেটি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: টানা কয়েক দিন চাপ প্রয়োগের পর আমাদের বলা হয়, আমরা যদি আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দিতে রাজি হই, তাহলে বাইরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পাব। তখন আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই, যদি বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে আন্দোলন বন্ধের পরিবর্তে চালিয়ে যাওয়ার কথাই বলব। পরে আমাদের কাছ থেকে একটি ভিডিও বার্তা নেওয়া হয়। আমাদের ধারণা ছিল, সেটি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখানো হবে এবং অনুমতি পেলেই আমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে দেখি, আমাদের মুক্তি না দিয়েই ভিডিওটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বুঝতে পারি, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং ওই ভিডিওটি চাপ প্রয়োগ করেই নেওয়া হয়েছিল।

আগামীর সময়: এরপর আপনারা অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন?

আসিফ মাহমুদ: ভিডিওটি প্রচারের পর আমরা বুঝতে পারি, যত দ্রুত সম্ভব বাইরে গিয়ে মানুষকে জানানো প্রয়োজন যে, ওই বক্তব্য স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি। সে কারণেই আমি, নাহিদ ভাই ও বাকের অনশনে বসি। আমরা একই ফ্লোরে থাকলেও অন্যরা তখন জানতেন না যে আমরা অনশন শুরু করেছি। প্রায় ৩২ ঘণ্টা অনশনের পর আমাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকরা এসে পরীক্ষা করে দেখেন, শরীরের বিভিন্ন সূচক উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। পরে আমাদের অনশন ভাঙানোর জন্য নানা চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ছয় দিন পর আমাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আগামীর সময়: আন্দোলনের শুরুতে কি সবাই এটিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন? সমন্বয়কদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য ছিল?

আসিফ মাহমুদ: অবশ্যই মতপার্থক্য ছিল। আন্দোলনে যারা এসেছিলেন, সবাই একই রাজনৈতিক পটভূমি বা একই ধরনের চিন্তা নিয়ে আসেননি। অনেকেই শুধু কোটা সংস্কার ও নিজেদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন থেকে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান থেকে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ফলে শুরুতে সমন্বয়কদের মধ্যেও একটি অংশ আন্দোলনকে কোটার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। তবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হামলা এবং ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে। তখন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি আর শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলন নয়। তবে সবাই একসঙ্গে সেই জায়গায় পৌঁছায়নি। অনেকে নিহতদের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছিলেন না, কারণ গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কারণেই মানুষ মারা যাচ্ছে।

আগামীর সময়: ৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। এর প্রেক্ষাপট কী ছিল?

আসিফ মাহমুদ: আবু সাঈদসহ ছয়জন নিহত হওয়ার পর থেকেই নতুন দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সরকারের ক্ষমা চাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। পরে সেগুলো সমন্বিত হয়ে ৯ দফায় রূপ নেয়। তবে ৯ দফার সব বিষয় নিয়ে সবাই একমত ছিলেন না। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিটি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই এ দাবিটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে ১৬ জুলাইয়ের পর আন্দোলন যে নতুন পর্যায়ে চলে গেছে, সে বিষয়ে প্রায় সবাই একমত ছিলেন। আমি মনে করি, ৯ দফা ঘোষণার আগেই আন্দোলনের চরিত্র বদলে গিয়েছিল। ১৬ জুলাইয়ের পর থেকেই আন্দোলন কার্যত কোটা সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে; ৯ দফা ছিল সেই পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ।

আগামীর সময়: আন্দোলন যখন সরকার পতনের দিকে এগোতে শুরু করে, তখন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় কীভাবে হতো?

আসিফ মাহমুদ: আন্দোলন যখন শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদা কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়নি। তবে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো। ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় ছিল। বিশেষ করে ক্যাম্পাসে হামলা বিষয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে।

১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর সময় অনেক জায়গায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার মুখে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। সে সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির— উভয় সংগঠনেরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

আগামীর সময়: ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্ত হওয়ার পর আন্দোলনের পরিস্থিতি কেমন দেখেছিলেন?

আসিফ মাহমুদ: আগস্টের শুরুতে মুক্তি পাওয়ার পর আমরা প্রথমে বোঝার চেষ্টা করি, আন্দোলনের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তখন দেখি, রিফাত রশিদ, আবদুল হান্নান মাসুদ, মাহিন, কাদেরসহ অন্য সমন্বয়করা ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ আগস্ট শহীদ মিনারের কর্মসূচির পর আমাদের কাছে মনে হয়, আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং এটিকে নতুন রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। সে সময়ই আমরা এক দফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিই। অনেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়ার পরামর্শ দিলেও আমরা মনে করেছি, জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে নিজেদের আড়ালে থাকা ঠিক হবে না। তাই ৩ আগস্ট সরাসরি শহীদ মিনারে গিয়ে এক দফা ঘোষণা করা হয়।

আগামীর সময়: ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?

আসিফ মাহমুদ: এক দফা ঘোষণার পর আমাদের ধারণা ছিল, আন্দোলন আরও কিছুদিন চলতে পারে। সে অনুযায়ী অসহযোগ আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছিল, বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর আসছিল যে, আওয়ামী লীগ ঢাকায় বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে আবার ইন্টারনেট বন্ধ করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। প্রথমে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ৬ আগস্ট করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ৪ আগস্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের মনে হয়, আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। তখন নাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে আমি ৫ আগস্ট কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিই। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। ব্যর্থ হলে পুরো দায় আমার ওপর আসতে পারত। তারপরও তখন মনে হয়েছিল, আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য দমনপীড়নের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

আগামীর সময়: ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের টার্নিং পয়েন্ট মনে করেন। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কী ভাবছিলেন?

আসিফ মাহমুদ: সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া। এখন সফল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সহজ, কিন্তু তখন পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরি অনিশ্চিত। আমাদের সামনে জয়ের যেমন সম্ভাবনা ছিল, তেমনি ছিল পরাজয়ের আশঙ্কাও। সিদ্ধান্তটি অনেকটা বাজি ধরার মতো ছিল। সেদিন যদি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণভবন ও আশপাশে অবস্থান নিয়ে সরাসরি গুলি চালাত, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। ৫ আগস্টেই কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন, গুলি চললে সেই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যেতে পারত। এমন আশঙ্কাও ছিল যে, আন্দোলন ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও সংঘাতপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে।

আগামীর সময়: ৫ আগস্টের আগে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কী ছিল?

আসিফ মাহমুদ: আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখেছি। কিছু কর্মকর্তা আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন, আবার অনেকের আচরণেও সরকারের প্রতি সহানুভূতির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তবে আমাদের মূল্যায়ন ছিল, সেনাবাহিনীর মধ্যম ও নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাধারণ সদস্যদের বড় একটি অংশ কোনোভাবেই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়নি। একটি বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ সময়ে সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশের মধ্যে সরকারের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা কাজ করছিল। কিন্তু আমরা মনে করি, মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রবল প্রতিরোধের কারণেই সেনাবাহিনী সামগ্রিকভাবে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি।

আগামীর সময়: আন্দোলন চলাকালে গণমাধ্যমের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আসিফ মাহমুদ: প্রথাগত গণমাধ্যমের বড় একটি অংশ তখন সরকারের বয়ানকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, এটিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা কিংবা সহিংসতার ঘটনাগুলোকে একপাক্ষিকভাবে প্রচার করা হয়েছে। অনেক গণমাধ্যম মেট্রোরেলে ভাঙচুর বা উন্নয়নবিরোধী তৎপরতার বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু আন্দোলনের পেছনের ক্ষোভ ও দমনপীড়নের বাস্তবতা যথেষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেনি। মাঠপর্যায়ের অনেক সাংবাদিক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের অনেকেই প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাইলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সবসময় তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নতুন ধারার গণমাধ্যম আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আগামীর সময়: ৫ আগস্টের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারপ্রধান করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?

আসিফ মাহমুদ: এক দফা ঘোষণার পর থেকেই আমাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় যে, সরকার পতন হলে পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। আমরা চেয়েছিলাম, দেশ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে। সে চিন্তায় ২ আগস্ট থেকেই ড. ইউনূসের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি এবং বিষয়টি অন্য সমন্বয়কদেরও জানাই। প্রথমদিকে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। তবে ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, হামলা ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। একই সঙ্গে সামরিক শাসনের আশঙ্কার কথাও আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারছিলাম। তখন আমরা মনে করি, দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের অধীনে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নেওয়া জরুরি। পরে ড. ইউনূসের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়। তারও কিছু উদ্বেগ ছিল— বিশেষ করে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সরকার পরিচালনায় অন্য কোনো শক্তি পেছন থেকে প্রভাব বিস্তার করবে কি না। আমরা তাকে আশ্বস্ত করি যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রশ্নে আমরা আপস করব না। এরপরই তার নাম ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়।

আগামীর সময়: প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে কি অন্য কোনো প্রস্তাবও ছিল?

আসিফ মাহমুদ: হ্যাঁ, বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিকল্প নামের প্রস্তাব এসেছিল। সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ বৈঠকেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। সেখানে অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও সাবেক কূটনীতিক সালেহউদ্দিন আহমেদের নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে আমাদের অবস্থান ছিল পরিষ্কার। আমরা মনে করেছিলাম, তৎকালীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ড. ইউনূসের মতো গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব প্রয়োজন। এমন একজন ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতো। সে কারণেই আমরা তার নামের পক্ষেই অনড় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর অন্য পক্ষও আমাদের অবস্থান মেনে নেয়।

আগামীর সময়: অনেকে মনে করেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য আপনাদের সদিচ্ছার অভাব কিংবা সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগকে দায়ী করা হয়। আপনি কীভাবে দেখেন?

আসিফ মাহমুদ: জুলাইয়ের অসম্পূর্ণতার পুরো দায় কেবল গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। আমার মতে, জুলাই-পরবর্তী সময়ে যে সীমাবদ্ধতাগুলো তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। উপদেষ্টা পরিষদ গঠন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে একটি শক্তিশালী জাতীয় সরকার গঠন করবে, যাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। কিন্তু সেই রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হয়নি।

আগামীর সময়: রাজনৈতিক দলের নেতাদের দায়টা কোথায় দেখছেন?

আসিফ মাহমুদ: জুলাইয়ের পর প্রথম বড় বিচ্যুতি ঘটে তখন, যখন রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার পরিবর্তে ক্যান্টনমেন্টমুখী হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার আগেই, বেলা ১১টার দিকে সেনাপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে সময়ও শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় ছিলেন। আমাদের মনে হয়েছিল, ওই মুহূর্তে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা মনে করি, সেই সময়ে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে পারলে সংস্কারের পথ অনেক সহজ হতো। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর এককভাবে এত চাপ পড়ত না এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্কও অনেকাংশে এড়ানো যেত।

আগামীর সময়: যদি আবার ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতেন, তাহলে কী পরিবর্তন করতেন?

আসিফ মাহমুদ: আমার মতে, আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ৫ আগস্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র দিতে না পারা। সত্যি বলতে, সেদিনই সরকারের পতন ঘটবে— ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত এগোবে, সেটি আমরা পুরোপুরি অনুমান করতে পারিনি। আজ যদি সেই দিনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতাম, তাহলে প্রথম কাজ হতো একটি স্পষ্ট ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা। অন্তত কয়েক লাইনের একটি ঘোষণায় আমরা রাষ্ট্রের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরতে পারতাম। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ভুল।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসাক্ষাৎকারজুলাই আন্দোলন
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল ও সালেহউদ্দিনের নাম ছিল

    প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ নজরুল ও সালেহউদ্দিনের নাম ছিল

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:০৬

    বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ

    বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন মোশাররফ

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩২

    অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জে...

    অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জে...

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৫

    সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করলেন স্বামী

    সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করলেন স্বামী

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৪

    শ্রীলঙ্কায় মশা মারতে কামান!

    শ্রীলঙ্কায় মশা মারতে কামান!

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:২১

    বিএমইউতে অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা

    বিএমইউতে অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:১১

    লোকসানে থাকলেও হিসাবের খাতায় মুনাফা

    লোকসানে থাকলেও হিসাবের খাতায় মুনাফা

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪

    তিন জেলা পাচ্ছে দেড় হাজার কোটি

    তিন জেলা পাচ্ছে দেড় হাজার কোটি

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮

    কমছে ২১৯৫ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ

    কমছে ২১৯৫ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০

    আন্তর্জাতিক ৫০ মেলায়  অংশ নেবে বাংলাদেশ

    আন্তর্জাতিক ৫০ মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:২২

    বিএফটিআই হবে বাণিজ্য গবেষণার থিংক ট্যাংক

    বিএফটিআই হবে বাণিজ্য গবেষণার থিংক ট্যাংক

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬

    ৪১৮ সিসি ক্যামেরার ফাঁকে জব্দ পণ্য চুরি

    ৪১৮ সিসি ক্যামেরার ফাঁকে জব্দ পণ্য চুরি

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩

    হাতিয়ায় বিধ্বস্ত ১১ কিমি সড়ক ৩২ ব্রিজ-কালভার্ট

    হাতিয়ায় বিধ্বস্ত ১১ কিমি সড়ক ৩২ ব্রিজ-কালভার্ট

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬

    স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে গড়েছিলেন বাগান

    স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে গড়েছিলেন বাগান

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪

    এক মাস পিছিয়ে গেল  আমন আবাদ

    এক মাস পিছিয়ে গেল আমন আবাদ

    ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০

    advertiseadvertise