বিএমইউতে অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হয়েছে ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে। এ সময় বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন সৎ, সাহসী, নির্ভীক ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন সংগ্রামী মানুষ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে তার জীবনাদর্শ বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূত্ররোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণসভা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ মানুষ। নিজ এলাকার মানুষের কাছে ছিলেন একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক ও প্রিয় মানুষ। আমৃত্যু তিনি ছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। রাজপথে তিনি ছিলেন এক চিরসংগ্রামী নেতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বারবার আসে না। স্বাধীনতা একবারই আসে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধারা দেশটাকে স্বাধীন করেছেন বলেই আজ আমরা বড় বড় স্থানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তবে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নিজ নিজ প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বমহিমায় প্রজ্জ্বলিত।’
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে রোগীদের জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে না পারলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলে গেলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারিয়ে যাবে। সেদিন পাকিস্তানের ভয়ংকর সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকাররা যে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে, তা ভোলার নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিত। তারা এদেশের মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে। হিন্দুদের গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েদের ওপর বেয়োনেট দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা যেন তা ভুলে না যাই।’
মরহুম অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন প্রাণবন্ত ও পরোপকারী মানুষ। তিনি সবকিছু ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতেন। বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায়ও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।’
অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ছিলেন মরহুম অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ডা. আরাফাতসহ পরিবারের সদস্যরাও।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল মারা যান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস। বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন এবং উপ-হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন ডা. কুদ্দুস। রাজনৈতিক জীবনেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং দলটির সহযোগী সংগঠন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।




