১১ মাসে কমেছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ
রপ্তানি আয়ে ভাটা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় কমেছে ২.৫৫ শতাংশ। জুলাই-মে মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দুর্বল ভোক্তা চাহিদার প্রভাবেই রপ্তানি আয়ে এ পতন দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক মাসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। মে মাসে রপ্তানি আয় ৪৪০ কোটি ডলার, যা এপ্রিলের ৪১০ কোটি ডলারের তুলনায় ৯.৮০ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসের তুলনায় আয় ৭.০৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৪ কোটি ডলার।
রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতেও একই ধারা দেখা গেছে। মে মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ডলার, যা এপ্রিলের তুলনায় ১৪.৪৩ শতাংশ বেশি। তবে বছরওয়ারি হিসাবে এই খাতে আয় কমেছে ৮.২৯ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে পোশাক রপ্তানি ছিল ৩৯২ কোটি ডলার। আর জুলাই-মে মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি ৩.৪১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলার থেকে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলারে নেমেছে।
জুলাই-মে মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি ৪.২৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৭৮ কোটি ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৪২ শতাংশ, আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ কোটি ডলার। তবে মে মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি এপ্রিলের তুলনায় ১৫.৫৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৩.০৭ শতাংশ বেড়েছে।
শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ আগামীর সময়কে বললেন, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তাদের সতর্ক ব্যয়ের কারণে পোশাক খাতে চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে মে মাসের প্রবৃদ্ধি আগামী মাসগুলোয় কিছুটা ইতিবাচক ধারা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে অপ্রচলিত কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, মুদ্রিত উপকরণ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বছরওয়ারি এবং ১১ মাসের হিসাবে বেড়েছে। পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফল এবং কাঁকড়ার রপ্তানিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
জুলাই-মে মাসে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ, আয় হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ডলার। একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ৭৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হোম টেক্সটাইল খাতেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ১১ মাসে এ খাতের রপ্তানি ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৮৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।
অন্যদিকে সামুদ্রিক খাদ্য খাতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কাঁকড়া রপ্তানি ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোভন ইসলাম বললেন, অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে রপ্তানি কম হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই দেশের রপ্তানি খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ট্রাম্প ট্যারিফ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকভাবে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে।
রপ্তানি খাতকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কিছু নীতিসহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পণ্যবৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।




