ডেনমার্কে প্রথমবার নারীপ্রধান মন্ত্রিসভা

সংগৃহীত ছবি
ডেনমার্কের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মন্ত্রিসভায় পুরুষের তুলনায় নারী সদস্যের সংখ্যা বেশি হলো।
মঙ্গলবার (৩ জুন) পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেন ফ্রেডেরিকসেন। তিনি জানান, ২১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ১১ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ।
মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক মাসের আলোচনা শেষে গত ১ জুন ফ্রেডেরিকসেন ঘোষণা দেন, তার নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস, সোশ্যালিস্ট পিপলস পার্টি, মধ্য-বামপন্থী রাডিকালে ভেনস্ত্রে এবং মধ্যপন্থী মডারেটস পার্টিকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি সংখ্যালঘু জোট সরকার।
আগের সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মুখও স্থান পেয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভায়। নির্বাচনের পর ‘কিংমেকার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মডারেটস নেতা লার্স লোকে রাসমুসেন থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ফ্রেডেরিকসেনের দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের পিটার হামেলগার্ড। অন্যদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রী নিকোলাই ওয়ামেনকে দেওয়া হয়েছে বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব। রাজনৈতিক অঙ্গনে দুজনকেই ভবিষ্যতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের নেতৃত্বের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হামেলগার্ডকে অর্থমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ফ্রেডেরিকসেন তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে একটি দিয়েছেন স্পষ্ট বার্তা।
গত ২ জুন প্রকাশিত সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য দেওয়া হয়েছে সহায়তার প্রতিশ্রুতি। একই সঙ্গে কঠোর অভিবাসননীতি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।
মার্চের নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস ১৯০৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল করলেও ৩৮টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নির্বাচনে বাম ও ডানপন্থী কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
নতুন জোট সরকারের চারটি দলের হাতে ১৭৯ সদস্যের পার্লামেন্টে রয়েছে মাত্র ৮২টি আসন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে অন্যান্য দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।




