অসহায়দের জন্য সেবিনের আশ্রয়

নিজের গড়া আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সঙ্গে সেবিন মিয়া
কেউ পড়েছিলেন রাস্তার ধারে ঝোপে। কেউবা রেলস্টেশনে। আবার কেউ স্বজনদের বঞ্চনায় সব হারিয়ে ছিলেন পথে। এখন তাদের ঠিকানা আশ্রয়কেন্দ্রের এক চালের নিচে। রক্তের বন্ধন না থাকলেও এখন তারা একসঙ্গে খান, ঘুমান।
বগুড়ার সারিয়াকান্দির হাটফুলবাড়ী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সেবিন মিয়ার (৩২) গড়ে তোলা এই আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছেন এমন অবহেলিত ২৪ নারী-পুরুষ। গ্রামের বাঙ্গালী নদীর পাড়ঘেঁষে ২০২৩ সালে ‘ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোম’ নামে আশ্রয়কেন্দ্রটি গড়ে তোলেন তিনি। সেবিন মিয়া বললেন, ‘অন্য বৃদ্ধাশ্রমে সাধারণত পরিবারের লোকজন রেখে যান। কিন্তু আমার এই আশ্রয়কেন্দ্রে যারা আছেন তাদের জঙ্গল, রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছি। পরিবারের লোকজন তাদের ফেলে রেখে গেছে।’
সেবিন বলছিলেন, ‘আমি সময় পেলে বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে যেতাম। বিশেষ করে রেলস্টেশনে গেলেই দেখতাম অনেক বয়স্ক মানুষ সেখানে মানবেতর জীবন কাটান। সেখান থেকে মনে হয়েছিল আমি এসব মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়তে পারি।’ এরপর ২০২৩ সালে রামচন্দ্রপুর বাজারে নিজের ওষুধের দোকানের পেছনে পৈতৃক জমিতে আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। প্রথম বছরে ঠাঁই হয় পাঁচজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রের ২৪ বাসিন্দার মধ্যে ১৪ জনই নারী।
সারিয়াকান্দির কাঁঠালতলা গ্রামের গোলাপি (৬০) এই আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দেড় বছর ধরে আছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার স্বামী-সন্তান না থাকায় অসহায় হয়ে পড়ি। এখন কোনো কাজও করতে পারি না। এরপর সেবিন আমাকে এখানে নিয়ে আসে। এখানে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি। আমাদের যা লাগে সব সেবিন বাবা এনে দেয়।’
ওল্ড অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হোমে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রের ঘরটিতে চারটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও দুটি শৌচাগার রয়েছে। বিনোদনের জন্য রয়েছে দুটি টেলিভিশন। বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি আছে জেনারেটরের ব্যবস্থা।
সেবিন মিয়ার ওষুধের দোকানের আয়ে চলছে বৃদ্ধাশ্রমটি। এ ছাড়া বিভিন্ন মানুষ ফেসবুকে তার এসব কার্যক্রমের ভিডিও দেখে সহযোগিতা করেন। তার স্বজন এবং স্থানীয়রাও সহযোগিতা করেন। পরিচিত কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী প্রতিদিন বিক্রি শেষে যে সবজি থাকে, তা নামমাত্র মূল্যে দিয়ে যান।




