‘চাওয়া পাওয়া’ আমাকে সন্তুষ্ট করেছে

জাকিয়া বারী মম
এনটিভিতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। এতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পান্থ আফজাল
‘চাওয়া পাওয়া’ দিয়ে আবারও ধারাবাহিকে ফিরে কেমন লাগছে?
খুব ভালো লাগছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ‘চাওয়া পাওয়া’র পুরো টিম অসাধারণ। পরিচালক রাকেশ বসুর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ইতিবাচক। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শুটিংয়ের পুরো সময় খুব আন্তরিক পরিবেশে কেটেছে। সবাই নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেব। এ নাটকে ইন্তেখাব দিনার, মীর রাব্বী, ডলি জহুরসহ অনেকে আছেন। আমরা প্রত্যেকে নিজের চরিত্রকে ভীষণ উপভোগ করেছি।
নাটকে আপনি একজন থিয়েটারকর্মী ও অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন...
অনেকেই ভাবতে পারেন, আমি যেহেতু বাস্তবেও একজন অভিনেত্রী, তাই হয়তো চরিত্রটি করা খুব সহজ ছিল। কিন্তু আমার ব্যক্তিজীবন আর চরিত্রের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। চরিত্রটির নিজের আবেগ, সংকট ও সম্পর্কের টানাপড়েন আছে। মেয়েটি থিয়েটারকর্মী, ভালো আবৃত্তি করে এবং কবি হাসান আরিফের কবিতার ভক্ত। গল্পের একপর্যায়ে তার জীবনে এমন কিছু ঘটে, যা তাকে মানসিকভাবে দোলাচলে ফেলে দেয়। দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন, এটি আমার নিজের প্রতিচ্ছবি নয়; বরং সম্পূর্ণ আলাদা একটি চরিত্র।
নাটকটি আবুল বাশারের ‘পবিত্র অসুখ’ উপন্যাস থেকে নির্মিত। গল্পটি আপনাকে কতটা আকৃষ্ট করেছে?
এটি কোনো সাধারণ গল্প নয়। মনসুর রহমান চঞ্চল খুব যত্ন নিয়ে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। উপন্যাসের আবেগ, চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং সম্পর্কের টানাপড়েন খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিচালক রাকেশ বসু প্রতিটি নাটকে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ‘চাওয়া পাওয়া’ও সেই ধরনের একটি কাজ।
রাকেশ বসুর পরিচালনায় কাজ করার বিশেষত্ব কী বলে মনে হয়?
তিনি খুব যত্নশীল একজন নির্মাতা। প্রতিটি দৃশ্য নিয়ে আলাদা করে ভাবেন। ছোট ছোট বিষয়েও আপস করেন না। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জানেন। অনেক সময় দেখা যায়, ধারাবাহিক নাটক এগিয়ে নিতে গিয়ে গল্প দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু রাকেশ বসু সেই জায়গাটা খুব যত্নের সঙ্গে সামলে নেন। ‘চাওয়া পাওয়া’র প্রতিটি দৃশ্যও খুব যত্ন নিয়ে ধারণ করা হয়েছে।
এতদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরতে দ্বিধা কাজ করেছিল?
না, দ্বিধা ছিল না। বরং অপেক্ষা করছিলাম এমন একটি গল্পের জন্য, যেটি নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগবে। সবসময় একটু বেছে কাজ করি। শুধু পর্দায় হাজির হওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতে চাই না। গল্প, চরিত্র এবং নির্মাণ আমাকে টানতে হবে। ‘চাওয়া পাওয়া’ সেদিক দিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করেছে। তাই দীর্ঘ বিরতির পর এর মাধ্যমে ধারাবাহিক নাটকে ফিরলাম। আমার বিশ্বাস- ভালো গল্প, ভালো অভিনয় আর সুন্দর নির্মাণ মিলিয়ে এটি একটি উপভোগ্য ধারাবাহিক হবে।
বর্তমানে আবারও ধারাবাহিক নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে।
এটা খুবই ইতিবাচক বিষয়। আমি মনে করি, দর্শক কখনোই নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। বরং ভালো গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। যদি গল্প ও অভিনয় ভালো হয় আর নির্মাণে যত্ন থাকে তাহলে দর্শক অবশ্যই সেটি গ্রহণ করে নেন। একসময় ধারাবাহিক নাটক আমাদের দর্শকের প্রতিদিনের জীবনের অংশ ছিল। এখন আবার সেই জায়গায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
‘মাস্টার’ সিনেমা মুক্তি পাবে কবে?
‘মাস্টার’-এ আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি কাজ। শিগগিরই পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাবেন। আশা করি, দর্শক খুব দ্রুতই সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাবেন।




