প্রকল্প দেরি হলে শাস্তি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে বাস্তবায়ন দেরি হলে থাকবে শাস্তির ব্যবস্থা। সে সঙ্গে অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্প সংশোধনের প্রকৃত কারণ খুঁজবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়ী বলে চিহ্নিত হয়, তাহলে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হবে মনিটরিং ড্যাশ বোর্ড। শুধু তাই নয়, চলমান যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে বন্ধ বা অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হবে। সরকারের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারই প্রথম এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত ১৮ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের প্রথম অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১ জুন জারি করা হয়েছে ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী। সেখানে প্রকল্পের গতি বাড়াতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা প্রায় ১০ ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে অর্থবছর পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও রয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেছেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এডিপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মাধ্যম। তাই এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনইসি বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি। কিন্তু প্রতিটি অর্থবছরে মাঝপথে এসে এডিপি কাটছাঁট করে সংশোধনের মাধ্যমে বরাদ্দ কমানো হয়। এরপরও শেষে এসে শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি অর্থবছরের শেষ তিন মাসে তড়িঘড়ি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, মানহীন কাজ ও অর্থ অপচয়ের শঙ্কা সৃষ্টি হয়। সে সঙ্গে প্রকল্প একবার শুরু হলে যেন শেষই হতে চায় না। এ পরিপ্রেক্ষিতে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এনইসি বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যেই এডিপিভুক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে যেসব প্রকল্প শেষ হয়নি, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। এর পেছনে যথাযথ কারণ না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা রোধ করা যাবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ প্রকল্প পর্যালোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিহার করতে হবে এবং তাদের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর সঙ্গে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আসন্ন বাজেটে এনইসির সিদ্ধান্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রকল্পে গতি আনতে আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনে আগেভাগেই এডিপি সংশোধন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও নির্ধারিত সেট রুল থাকা প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন যথাযথ অনুসরণ আবশ্যক। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সূচির যথাযথ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




