ডিবি
দেলোয়ার হত্যা মামলায় বিচ্ছিন্ন তথ্য দিয়েছেন ‘এক-এগারোর’ মাসুদ

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী । ছবি : সংগৃহীত
মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পর্যাপ্ত তথ্য গোপন রেখে বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য দিয়েছেন ‘এক-এগারোর’ আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন তার আরও রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এদিন মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তার ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ এপ্রিল আদালত থেকে গ্রহণের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিধি মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে আসামিকে আবার ঢামেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে। আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় তার দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
আবেদনে রিমান্ডের পক্ষে পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, আসামি মামলার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য গোপন রেখে বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে হবে। তার দেওয়া তথ্য অন্য মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় আগের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত ছিল, তা জানতে তাকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
সর্বশেষ ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ৭ এপ্রিল পল্টন মডেল থানার মামলায় তিন দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।















