শিক্ষামন্ত্রী
জেলার স্কুলেই পড়তে হবে ডিসির সন্তানদের

ছবিঃ আগামীর সময়
জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পরিবার বা সন্তানদের ঢাকায় অবস্থান ও পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। নীতি অনুযায়ী, ডিসিদের নিজ কর্মস্থলে সপরিবারে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক। সন্তানদের পড়াশোনা করাতে হবে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এখন সেটি উল্টে ডিসিরা থাকেন জেলায়। পরিবার রাখেন ঢাকায়। এতে বেড়ে যায় তাদের খরচ। দুই জায়গার খরচ বহন করতে অনেক সময় অসদুপায় অবলম্বন করেন তারা।
এ ছাড়া ডিসির সন্তানরা জেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলে স্কুলগুলোর মানোন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৃদ্ধি পায় নজরদারি। এবার সেই পথেই হাঁটলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) যে জেলায় থাকবেন তাদের সন্তানদের ওই জেলার স্কুলেই পড়াতে হবে। ডিসিরা থাকবেন জেলায় আর সন্তান পড়াবেন ঢাকায়। সেটা হবে না।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেছেন তিনি। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে।
এখন নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অনেকে নকল করছে ডিজিটাল উপায়ে। নকল রোধে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাখা হবে নজরদারিতে। পরীক্ষা কেন্দ্রেও থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা।
‘অনেক শিক্ষক খাতা দেখান হেলপার দিয়ে। পরীক্ষার খাতায় লিখে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কাজেই এবার শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন করতে দেওয়া হবে লটারি পদ্ধতিতে’— যোগ করেন মন্ত্রী।
শিক্ষকদের উদ্দেশে এহছানুল হক মিলন বলছিলেন, ‘এবার যদি কোনো স্কুলে কেউ পাস না করে, তাহলে এমন কথা বলব, যা গায়ে লাগবে আপনাদের। তাই তৈরি হন, ভালো রেজাল্ট করুন।
হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংঘবদ্ধ চক্র নকলে সহায়তা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা চাই, বিনা পরীক্ষায় কেউ পাস না করুক। বিনা মেধায় কেউ সার্টিফিকেট পাক। যারা লেখাপড়া করবে না টিকটক করবে তারা আমাদের ভাবনা না। যারা পড়াশোনা করবে লেখাপড়া করবে আমাদের চিন্তা তাদের নিয়ে।
শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে ভয়েজ কল বা ভিডিও পাঠাবেন। নেওয়া হবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। এ সময় কেন্দ্র সচিবদের নিজের মোবাইল নম্বর দেন মন্ত্রী।
জাতির টেকসই উন্নয়নে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও জানান এহছানুল হক মিলন।















