ক্ষুব্ধ তেহরান
জব্দ ইরানি সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ বা পণ্যের কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের কাছ থেকে জব্দ করা অর্থসম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ দেবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ক্ষুব্ধ ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গত দুই সপ্তাহে বেড়েছে হামলা। গত বৃহস্পতিবার টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজন হলে এর চেয়েও বড় সামরিক হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও দখলে থাকা ইরানের অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তারপরও এভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটাই সুষ্ঠু এবং ন্যায্য হবে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা উসকানিমূলক নজির।’
আরাঘচির ভাষ্য, যারা এ ধরনের অর্থ জব্দের গুণগান করেন বা এ থেকে লাভবান হন, তাদের মনে রাখা উচিত— একবার রাষ্ট্রগুলো যদি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়, তাহলে কারও সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না। আর এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, তা সুন্দরও হবে না, শান্তিপূর্ণও হবে না।
ইরানের জব্দ করা সম্পদের বিষয়টি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। গত জুনে যুদ্ধ অবসানে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিল, সেখানে এ বিষয়ের উল্লেখ ছিল। তবে সেই সমঝোতা চুক্তি পরে ভেঙে যায়।
এদিকে ইরানের কাছে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার সময়ই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন ট্রাম্প।
আলি আল-জায়েদি বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করেন। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে তিনি হোয়াইট হাউজে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ছিল ‘আলোচনার টেবিলে থাকা একমাত্র প্রস্তাব’। তবে তেহরান এমন কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী নয়, যেখানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রশ্নের কোনো সমাধান নেই।




