অনিয়মের অভিযোগ
জরিমানার মুখে এনবিএল সিকিউরিটিজসহ কর্মকর্তারা

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোট ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্যভুক্ত এ ব্রোকারেজ হাউজটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ সংরক্ষণ না করা, গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া অননুমোদিত লেনদেন সম্পাদন করা, গ্রাহকের অভিযোগ দায়ের করার পর তা নিষ্পত্তি না করা এবং পেশাগত অসদাচরণের রয়েছে অভিযোগ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবু সালেহ নামের একজন গ্রাহকের (বিনিয়োগকারী) অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রোকারেজ হাউজটি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন তদন্ত করে দেখেছে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগগুলোর মধ্যে- গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া অননুমোদিতভাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, লেনদেনের আদেশ সংরক্ষণ না করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গাফিলতির মতো উঠে এসেছে গুরুতর বিষয়।
তথ্য বলছে, বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০ এর বিধি ৩(১) লঙ্ঘনের দায়ে ৮ লাখ টাকা, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্বের জন্য ১ লাখ টাকা এবং পেশাগত অসদাচরণের জন্য আরও জরিমানা করা হয় ১ লাখ টাকা।
একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ঘটনাকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়েদ আল মামুন হাসানকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের দায়ে ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য দুইটি বিধি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা করা হয় ২ লাখ টাকা।
এছাড়া ঘটনাকালীন ব্যবস্থাপক আহমেদ ইফতেখার শহীদ এবং প্রধান অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে পৃথকভাবে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিএসইসি জানিয়েছে, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং লেনদেনের আদেশ সংরক্ষণ না করা গুরুতর অপরাধ, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি। এ ধরনের অনিয়ম পুঁজিবাজারে আস্থা নষ্ট করতে পারে। অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা নিষ্পত্তি না করা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে পেশাগত স্বচ্ছতার অভাবও।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রোকারেজ হাউসগুলোর এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএসইসি’— বলছিলেন বিএসইসির সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।















